পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা আজও নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। এই সমাজে নারীকে দুর্বল, নির্ভরশীল ও সহনশীল হিসেবে দেখানো হয়, অথচ পুরুষের অন্যায়কে আড়াল করা হয়। এর ফলেই প্রতিনিয়ত মেয়েরা লাঞ্ছনা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছে—অনেক সময় নীরবে, অনেক সময় ভয় ও লজ্জার কারণে মুখ খুলতে না পেরে।
প্রশ্ন জাগে—মেয়েরাই কেন সবসময় শিকার হবে?
কেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো কার্যকর আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নেই? আইন থাকলেও বাস্তব প্রয়োগের অভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, আর ভুক্তভোগী নারী আরও অসহায় হয়ে পড়ে।
সমাজে এখনও বৈষম্য (বয়সম্য/লিঙ্গবৈষম্য) গভীরভাবে প্রোথিত। ছেলে ও মেয়ের জন্য আলাদা নিয়ম, আলাদা স্বাধীনতা—এটাই বৈষম্যের মূল। এই বৈষম্যের ব্যাখ্যা দেওয়া হয় “সমাজ”, “সংস্কৃতি” বা “সম্মান”-এর নামে, কিন্তু বাস্তবে এগুলো নারীর অধিকার হরণ করার অজুহাত মাত্র।
নারী অধিকার মানে শুধু শিক্ষা বা চাকরি নয়—
এটা মানে নিরাপদ জীবন, সম্মান, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা। নারীকে মানুষ হিসেবে পূর্ণ মর্যাদা দিতে হলে পুরুষশাসিত মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পরিবার, শিক্ষা ব্যবস্থা, আইন ও রাষ্ট্র—সব জায়গা থেকেই এই পরিবর্তন শুরু করতে হবে।
সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার।
সময় এসেছে প্রশ্ন করার।
সময় এসেছে নারী অধিকার বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করার
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com