গণতন্ত্রের মূল শক্তি নিহিত রয়েছে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে। সেই অংশগ্রহণের সবচেয়ে মৌলিক ও কার্যকর মাধ্যম হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ। একজন নাগরিক হিসেবে নিজের ভোট নিজে দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিক স্বীকৃতিই নয়, এটি একটি দায়িত্বও। স্বাধীনভাবে, নির্ভয়ে এবং সচেতনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়েই নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের মতামত প্রকাশ করেন।
দুঃখজনক হলেও সত্য, নানা সময়ে ভোটবিমুখতা, অনীহা কিংবা হতাশার কারণে অনেক নাগরিক ভোটকেন্দ্রে যান না। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দুর্বল হয় এবং জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়। অথচ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির কোনো বিকল্প নেই।
ভোট দেওয়া কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই অধিকার বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের উচিত অন্যদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করা। বিশেষ করে নতুন ভোটার ও আগ্রহ হারানো নাগরিকদের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
ভোটকেন্দ্রমুখী জনগণই পারে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। জনগণের অংশগ্রহণ যত বেশি হবে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা তত বাড়বে, শক্তিশালী হবে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত। তাই ব্যক্তিগত মতভেদ বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ঊর্ধ্বে উঠে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে ভোটাধিকার প্রয়োগ।
এই মুহূর্তে আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হওয়া উচিত—নিজে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া, অন্যকেও নিয়ে যাওয়া এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ গড়ে তোলা। সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণতন্ত্র তার প্রকৃত অর্থে বিকশিত হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com