দেশে সাংবাদিকতার পেশা আজ নানা প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে প্রকৃত সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে একটি অসাধু চক্র সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে। এতে করে গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতা একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ পেশা, যেখানে সম্পাদকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পাদক ছাড়া সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়া কঠিন, ফলে অনেক ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞ বা অযোগ্য ব্যক্তিরা সংবাদ পরিবেশন করছেন, যা ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে। এতে সাংবাদিকতার মূল নীতি—সত্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধ—হুমকির মুখে পড়ছে।
এদিকে, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রসার দেশের তথ্যপ্রবাহকে দ্রুততর করলেও, কিছু বেসরকারি টিভি চ্যানেলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে কিছু মাধ্যম দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে সংবাদ প্রচার করছে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের একটি হিসেবে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন এই স্তম্ভ দুর্বল হয়ে পড়ে বা স্বার্থান্বেষী চক্রের প্রভাবে পরিচালিত হয়, তখন পুরো দেশই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে সম্পাদকীয় তদারকি জোরদার করা জরুরি, যাতে প্রতিটি সংবাদ যাচাই-বাছাই করে প্রকাশিত হয়।
সচেতন মহল মনে করছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাংবাদিকতার আড়ালে অপপ্রচারএ
আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সরকার, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকল স্তরের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com