[caption id="attachment_18596" align="alignnone" width="300"]
শিক্ষা বাজেট নিয়ে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা: গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত[/caption]
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হবে এবং জনগণের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে সক্ষম হবে—এসব বিষয় নিয়ে রাজধানীতে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে “কেমন হলো শিক্ষা বাজেট: বাস্তবতা ও জনপ্রত্যাশা” শীর্ষক এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষা খাতের বাজেট, নীতিগত চ্যালেঞ্জ, শিক্ষার গুণগত মান এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, শিক্ষা একটি দেশের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা বাস্তব চাহিদার তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণসাক্ষরতা অভিযানের একজন প্রতিনিধি। তিনি শিক্ষা খাতের সামগ্রিক বাজেট বিশ্লেষণ করে বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব সমস্যা সমাধানে বাজেট বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির তুলনায় এখনও অনেক কম। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেন, শুধু বাজেট বৃদ্ধি করলেই হবে না; বরং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা, বিদ্যালয় ত্যাগের হার কমানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে গণসাক্ষরতা অভিযানের কার্যক্রম ব্যবস্থাপক আব্দুর রউফসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা খাতকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর, বাস্তবমুখী ও জনমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এখন সময়ের অন্যতম দাবি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com