সরকার আসে, সরকার যায়—কিন্তু চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য যেন থামে না। এবার চাঁদাবাজি রোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন জোনের প্রায় দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল, কটেজ ও রিসোর্টে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছে তারা।
চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে—কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করে, তাৎক্ষণিকভাবে টুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করতে হবে। তথ্যদাতার নাম-ঠিকানা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেন অতিরিক্ত ডিআইজি ও রিজিয়ন প্রধান আপেল মাহমুদ। তিনি তার ব্যবহৃত সরকারি নম্বরও উল্লেখ করেন।
এই উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত হোটেল ব্যবসায়ীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চিঠিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সিনিয়র নেতা রাসেদ মুহাম্মদ আলী ফেসবুকে লিখেছেন, রমজানে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে টুরিস্ট পুলিশ রিজিয়ন প্রধানের কঠোর হুঁশিয়ারিতে ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে।
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন, পর্যটন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তারা সবসময় পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে আসছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হোটেল-মোটেল জোনে চাঁদাবাজি নতুন নয়—দলীয় মিছিল-মিটিং হলেই বাড়তি টাকা দিতে হতো। পুরনো চাঁদাবাজরা এখন নেই, তবে ৫ আগস্টের পর নতুন কিছু মুখ দেখা গেলেও বর্তমানে তারা গা-ঢাকা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও কক্সবাজার সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল ও টুরিস্ট পুলিশ প্রধানের পৃথক ঘোষণায় স্বস্তি ফিরেছে। এমপি কাজল তার ফেসবুক বার্তায় লিখেছেন—তার নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে সোপর্দ করতে, সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, টুরিস্ট জোনে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। যে দলের বা মতেরই হোক, অপরাধ করলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে—অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com