দেশজুড়ে মোবাইল ফাইন্যান্স সেবা ও ভাড়া গাড়ি ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছে ভয়ংকর প্রতারণা সিন্ডিকেট। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই চক্রের ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠিত এই অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতারকরা মোবাইল ফোনে ভুয়া কল ও মেসেজের মাধ্যমে নিজেদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। কখনও বলে—ভুল করে টাকা চলে গেছে, আবার কখনও ভুয়া এসএমএস দেখিয়ে টাকা পাঠানোর দাবি করে। সহজ-সরল মানুষ এসব কথায় বিশ্বাস করে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হারাচ্ছেন।
এছাড়া ভাড়া গাড়ি সেবার নামেও চলছে আরেক ধরনের প্রতারণা। মাসিক চুক্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে কিছুদিন ভালো সেবা প্রদান করা হয়। পরে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজি। ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
রাজধানীর গুলিস্তান, বাবুবাজার, সদরঘাট, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এলাকা এবং পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে এই প্রতারক চক্রের তৎপরতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব স্থানে সাধারণ মানুষের ভিড়কে কাজে লাগিয়ে তারা সহজেই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা কখনও সহায়তার নামে মোবাইল ফোন হাতে নেয়, আবার কখনও দোকান বা রিচার্জ পয়েন্ট ব্যবহার করে কৌশলে অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরিয়ে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারেন না কখন তাদের অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল সেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও আধুনিক হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং প্রযুক্তিগত অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা তাদের ফাঁদ বিস্তার করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই চক্রের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধানী দল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে—অপরিচিত কল বা মেসেজে বিশ্বাস না করা এবং ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।