বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই ও চালক আব্দুল মান্নান মোল্লা (৪৫) হত্যা মামলার এক আসামির জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই আসামি হাজতখানার বাথরুমে নিজের লুঙ্গি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) সকালে বগুড়া জেলা ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আসামির নাম মো. আসাদ (৩০)। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে।
হত্যা মামলা ও গ্রেপ্তার
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈখালী বিলসংলগ্ন এলাকা থেকে অটোরিকশাচালক আব্দুল মান্নান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মান্নান গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে। এ ঘটনায় ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসাদ অটোরিকশা ছিনতাই ও চালক হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার অপর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারে নওগাঁ জেলায় অভিযান চালায় ডিবির একটি দল। অভিযান শেষে রাতে তাঁকে আবার ডিবি কার্যালয়ের হাজতখানায় ফিরিয়ে আনা হয়।
পুলিশের দাবি ও সিসিটিভি ফুটেজ
পুলিশের ভাষ্যমতে, আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বের না হওয়ায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আসাদকে নিজের পরনের লুঙ্গি দিয়ে ভেন্টিলেটরের সাথে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা।
তাঁকে উদ্ধার করে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল ও প্রশাসনের বক্তব্য
মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, "হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। পরীক্ষার সময় তাঁর গলায় ফাঁসের একটি স্পষ্ট দাগ পাওয়া গেছে। তবে শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, "প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এছাড়া মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com