রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার আওতাধীন পশ্চিম আগারগাঁও এলাকার ‘বিএনপি বস্তি’তে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে শতাধিক অস্থায়ী স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে বিকেল পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই এলাকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশ ও মাইকিংয়ের পর অভিযান
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গায় কয়েকশ অস্থায়ী ঘর ও স্থাপনা গড়ে উঠেছিল। জায়গাটি দখলমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগে নোটিশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছিল।
ওসি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি বস্তিবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অভিযান শেষ করা সম্ভব হয়েছে।
শতাধিক স্থাপনা অপসারণ
অভিযানে বস্তি এলাকায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে এসব ঘর তৈরি করা হয়েছিল বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসতি গড়ে ওঠায় অনেক পরিবার সেখানে বসবাস করে আসছিল। উচ্ছেদের ফলে এসব পরিবারের আবাসন ও জীবিকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আগের অভিযানের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সমন্বয়
অভিযানে দায়িত্ব পালনকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছে।
তাঁর দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে আগেই আলোচনা এবং প্রচারণা থাকায় অভিযানকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়নি।
উচ্ছেদের পর পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোর পরবর্তী অবস্থান কী হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উচ্ছেদ করা স্থাপনার বাসিন্দাদের মধ্যে শিশু, নারী ও নিম্নআয়ের পরিবার থাকলে তাদের আবাসন ও জীবিকার বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে—এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জায়গা ও সড়ক-ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান নিয়মিতই পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব অভিযানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বসবাসকারী নিম্নআয়ের মানুষের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে উচ্ছেদ কার্যক্রমের সামাজিক প্রভাবও কমানো সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টদের মত। শেরেবাংলা নগরের আগের উচ্ছেদ অভিযানেও শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিকে, উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় ভবিষ্যতে যেন আবার নতুন করে স্থাপনা গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং সরকারি জমির সীমানা সংরক্ষণ এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com