বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট (Writ) মোট ৫ প্রকার।
রিট হলো হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতি জারি করা বিশেষ আইনি আদেশ বা নির্দেশ।
নিচে ৫ প্রকার রিটের নাম এবং কোন ক্ষেত্রে কোন রিট করা হয়, তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো—
কখন করতে হয়:
কোনো ব্যক্তিকে আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া অবৈধভাবে আটক বা গ্রেপ্তার করা হলে।
উদ্দেশ্য:
আটককৃত ব্যক্তিকে আদালতের সামনে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া এবং আটকাদেশ অবৈধ হলে তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া।
কখন করতে হয়:
কোনো সরকারি কর্মকর্তা, আদালত বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ যদি তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানায় বা অবহেলা করে।
উদ্দেশ্য:
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য আদালতের নির্দেশ প্রদান।
কখন করতে হয়:
কোনো অধস্তন আদালত বা আধা-বিচারিক কর্তৃপক্ষ যদি তাদের নির্ধারিত এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কোনো মামলার বিচারকার্য পরিচালনা করতে উদ্যত হয়।
উদ্দেশ্য:
উচ্চ আদালত কর্তৃক অধস্তন আদালত বা কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে কাজ করা থেকে বিরত রাখা। এটি সাধারণত চলমান বিচারিক কার্যক্রমের ওপর প্রয়োগ করা হয়।
কখন করতে হয়:
কোনো নিম্ন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষ যদি তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে কোনো রায় বা সিদ্ধান্ত প্রদান করে।
উদ্দেশ্য:
অবৈধ রায় বা সিদ্ধান্ত বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উচ্চ আদালতে তলব করা এবং প্রয়োজন হলে তা বাতিল ঘোষণা করা।
কখন করতে হয়:
কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে কোনো সরকারি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট পদে অধিষ্ঠিত থাকেন।
উদ্দেশ্য:
তিনি কোন ক্ষমতাবলে বা যোগ্যতায় ওই পদে অধিষ্ঠিত আছেন, তার বৈধতা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে আদালত পদটি শূন্য ঘোষণা করতে পারেন।
অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান চৌধুরী (রুবেল)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com