খুলনার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা এক পরিবারের সবাইকে অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২১ লক্ষ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনা পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান মোঃ নাজমুল হুদা (৪২) জানান, গত ২৩ আগস্ট রাতে তার পরিবারের সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে তাদের সবাইকে অচেতন করা হয়েছিল। গভীর ঘুমের সুযোগে একদল চোর রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে। তারা আলমারি ও শোকেসের তালা ভেঙে সব মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা জ্ঞান ফিরে দেখতে পান ঘরের সব জিনিসপত্র লন্ডভন্ড হয়ে আছে। আলমারি ও শোকেসের তালা ভাঙা। তখনই তারা বুঝতে পারেন যে তাদের ঘরে চুরি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে নাজমুল হুদা যে সব মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গেছে তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে:
নগদ ১০ লক্ষ টাকা
৩টি স্বর্ণের চেইন, মূল্য ২,৫০,০০০ টাকা
২টি স্বর্ণের রুলি, মূল্য ২,০০,০০০ টাকা
৩ জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, মূল্য ২,০০,০০০ টাকা
১টি স্বর্ণের ব্রেসলেট, মূল্য ৭৫,০০০ টাকা
৬টি স্বর্ণের নাকফুল, মূল্য ৭৫,০০০ টাকা
৫টি স্বর্ণের আংটি, মূল্য ৩,০০,০০০ টাকা
১৫ ভরি রুপার বিভিন্ন অলংকার, মূল্য ৬০,০০০ টাকা
সব মিলিয়ে প্রায় ২১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার সম্পদ লুট হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিল তিল করে জমানো অর্থ ও গহনা এক রাতের মধ্যে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা। নাজমুল হুদা গভীর দুঃখের সাথে বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছি। আমাদের সারা জীবনের সঞ্চয় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।”
এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানো এখন জরুরি। দ্রুত এসব অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না আনলে এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
এ বিষয়ে কয়রা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com