বিতর্কিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদিকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রোববার রাতে তাকে আটক করে ঢাকায় আনা হয়।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত সংক্রান্ত আদালতে দাখিল করা আবেদনে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় তৌহিদ আফ্রিদি শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নানা উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করেছিলেন। তিনি শুধু নিজে নয়, অন্যান্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভিডিও বানাতে প্ররোচিত ও চাপ প্রয়োগ করেন। যারা তার নির্দেশে সাড়া দেননি তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনসহ নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, মাইটিভির পরিচালক হিসেবেও তিনি আন্দোলনবিরোধী প্রচার চালিয়েছেন। তার কনটেন্ট ও বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় আওয়ামী কর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা নির্বিচারে গুলি চালায়, যাতে ছাত্র নেতা আসাদুল হক বাবু নিহত হন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে আফ্রিদিকে "মিডিয়া সন্ত্রাসী" আখ্যা দিয়ে বলেন, তাকে রিমান্ডে নিলে আন্দোলনবিরোধী হত্যাকাণ্ডে কারা সম্পৃক্ত ছিলেন তা উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষের মাঝেই বাবু নিহত হন। আফ্রিদির সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি মামলার বাদী নিজেই এফিডেভিট দিয়ে জানিয়েছেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আফ্রিদিকে আসামি করা হয়েছে এবং তার জামিন বা অব্যাহতি পেলে বাদীর আপত্তি নেই।
আসামিপক্ষ আদালতে আরও জানায়, আন্দোলনের সময় আফ্রিদির একাধিক পোস্ট ছাত্রদের পক্ষেও ছিল। তার বাবার রাজনৈতিক কোনো পদ-পদবি নেই এবং তিনি কেবল একজন ব্যবসায়ী। পাশাপাশি আফ্রিদির কিডনি জটিলতার বিষয়টি উল্লেখ করে তার চিকিৎসা ও যাতায়াতের সুবিধার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তৌহিদ আফ্রিদিকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com