কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে ইয়াবাসহ দুই মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার (১লা সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দেরপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটকরা হলেন টেকনাফ উপজেলার নাইটংপাড়া এলাকার মো. আব্দুল করিম (২৭) এবং একই এলাকার মো. হারেস (১৬)। আটকের সময় তাদের কাছ থেকে আনুমানিক ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করে।
সেনাবাহিনীর সূত্র জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা এনে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল। এই চক্রের সদস্যরা নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ওই চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চান্দেরপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চান্দেরপাড়া এলাকাটি মাদক পাচারের জন্য একটি ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে কক্সবাজার শহর এবং এরপর দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পাঠানোর জন্য এই রুটটি সুবিধাজনক। এলাকার সাধারণ মানুষ সেনাবাহিনীর এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আব্দুল করিমকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু মো. হারেস একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই তার বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার জেলায় মাদক পাচার একটি বড় সমস্যা। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকার মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর অংশ হিসেবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সেনাবাহিনীর এই ধরনের অভিযান মাদক পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com