কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে ১,৭৫০ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার ভোরে সাবরাং ইউনিয়নের লেজির পাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীর নাম মো: আবদুল্লাহ (৩৬)। তিনি মৃত দলিলুর রহমান দুলুর ছেলে এবং মাতা শাহেনা বেগমের সন্তান। আবদুল্লাহ লেজির পাড়া গ্রামের দলিলুর রহমানের বাড়ির বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় আবদুল্লাহকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তার কাছে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ১,৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল্লাহ স্বীকার করেন, তিনি সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মাদকের বড় একটি চালান তার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল বলে জানা যায়।
অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা জানান, ইয়াবা পাচারকারীরা সীমান্তবর্তী এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এতে স্থানীয় তরুণ সমাজ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। তারা আরও বলেন, মাদক কারবারে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেটের আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক প্রবেশ করছে। প্রতিদিন নতুন নতুন পরিবার মাদকের কারণে ধ্বংস হচ্ছে। তাই মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে নিয়মিত অভিযান চালানোর পাশাপাশি এলাকার প্রভাবশালী মাদক গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।
টেকনাফের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে মাদক সিন্ডিকেটগুলো নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করায় অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হয়। তবুও এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, টেকনাফ সীমান্ত এলাকা ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে কুখ্যাত। মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা পাচার হয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু চোরাচালানকারীরা নয়, পৃষ্ঠপোষকতাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিলে মাদক ব্যবসা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com