খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগের তীর স্থানীয় ডিলার ও তার সহযোগীদের দিকে, যাদের বিরুদ্ধে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং সরকারি চাল বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারীকে ৩০ কেজি ওজনের চালের বস্তা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক সুবিধাভোগীকে চাল নিতে হচ্ছে আলাদা করে ছোট ছোট পরিমাপে। এতে একদিকে যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন কার্ডধারীরা, অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়েও।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাশিপুর গ্রামের সাইফুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির নামে ডিলারশিপ থাকলেও তিনি সচরাচর উপস্থিত থাকেন না। তার পরিবর্তে চাল বিতরণ করেন অন্যরা, যাদের আচরণকে অমানবিক বলছেন ভুক্তভোগীরা। সাইফুল্লাহ স্থানীয় মেম্বার মোক্তার সরদারের ছেলে। একই পরিবারের একাধিক সদস্য আগে থেকেও বিতরণ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন।
একজন প্রবীণ ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- আমি যখন চাল নিতে যাই, তারা আমার কার্ড ছুঁড়ে ফেলে অপমান করে। এভাবে অসহায়দের সঙ্গে ব্যবহার করা কি ঠিক?
আরেকজন জানান, তার রেশন কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন কার্ড সংগ্রহ করতে না পারায় তাকে অপমান করে কার্ডটি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইফুল্লাহর আগে তার চাচা মো. আতাউর রহমান ডিলার ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগে তার ডিলারশিপ বাতিল হওয়ার পর একই পরিবারের আরেক সদস্যের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অনেক সুবিধাভোগী ডিলারের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ করলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, সাইফুল্লাহর ডিলারশিপ বাতিল করে প্রকৃত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় একজন নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হোক। একইসঙ্গে চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
অসচ্ছল মানুষের জন্য নির্ধারিত এই সরকারি সহায়তা প্রকৃতপক্ষে যদি দুর্নীতির শিকার হয়, তাহলে এই সহায়তার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com