রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার রিকশা পট্টিতে এক চালককে কারণহীনভাবে মারধরের অভিযোগে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের জানানো মতে, মারধরকারী জাহাঙ্গীর নামক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন ভাড়াটে রিকশা চালক, যারা তার নির্দেশে এই কাজে অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ।
ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুসারে, নির্যাতিত যুবকটি রায়েরবাজার এলাকার একটি দোকানে কাজ করেন এবং মাঝে মাঝে রিকশা চালিয়ে পারিবারিক আয়ের সাহায্য করেন। গতকাল বিকেলে তিনি রায়েরবাজারে ছিলেন, যখন জাহাঙ্গীরের লোকেরা তাকে খুঁজে বের করে মোহাম্মদপুরের রিকশা পট্টিতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছে তাকে চড়চাপড়, লাথি মেরে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে নির্যাতন করা হয়। চালকটির শরীরে বহু জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, এবং তিনি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবারের সদস্যরা জানান, "আমাদের ছেলে কোনো খারাপ কাজ করে না। হঠাৎ এমন হলো কেন, আমরা বুঝতে পারছি না।
জাহাঙ্গীরকে এলাকায় একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে চেনা যায়। তিনি যুবদলের সক্রিয় সদস্য এবং রিকশা, অটোরিকশা, পাখি ভ্যানসহ বিভিন্ন পরিবহনের মালিকানা করেন। স্থানীয় রিকশা চালকদের মতে, তার অধীনে কয়েকশো যানবাহন চলে, এবং ভাড়াটে চালকরা সময়মতো ভাড়া না দিলে তিনি প্রায়ই হুমকি, মারধরের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করেন। একজন অজ্ঞাতনামা চালক বলেন, "এটা এখানে নতুন নয়। জাহাঙ্গীরের লোকেরা ভয় দেখিয়ে ভাড়া আদায় করে। কিন্তু এবার যুবকটির কোনো দোষ ছিল না, শুধু ব্যক্তিগত কারণে হয়েছে বলে শুনছি।" তবে নির্যাতিত যুবকটিকে কেন মারধর করা হলো, সে সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা সন্দেহ করছেন যে, এটি হয়তো পুরনো কোনো বিবাদের ফলাফল।
ঘটনার পর স্থানীয়রা মহল্লা কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশের কাছে জানায়। মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রহিমুল ইসলাম জানান, "আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। অভিযোগকারী যুবকের বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে, এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জাহাঙ্গীরকে জিজ্ঞাসা করার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, এমন নির্যাতনের ঘটনা এলাকায় বাড়ছে, এবং পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। যুবদলের স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, তারা বিষয়টি তদন্ত করবে এবং দোষী সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু স্থানীয় যুবকরা বলছেন, এমন প্রতিশ্রুতি প্রায়ই দেওয়া হয় কিন্তু কাজ হয় না।
[video width="640" height="1028" mp4="https://dailyaparadhchakra.com/wp-content/uploads/2025/09/Bnp-R-aporadhchakra.mp4"][/video]
এই ঘটনা এলাকায় অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। রিকশা চালক ইউনিয়নের সদস্যরা বলছেন, "আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করি, কিন্তু প্রভাবশালীদের অত্যাচারে ভয়ে থাকি। সরকারকে এসব নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।" মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের এক সদস্য জানান, "এমন ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং শাস্তি না হলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে। আমরা বিষয়টি নজরে রাখব।" স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, রিকশা পট্টি এলাকায় নিয়মিত পুলিশ টহল বাড়ানো হোক এবং চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
ঘটনাটি বাংলাদেশের শ্রমজীবী শ্রেণির উপর চাপ সৃষ্টি করছে, যেখানে ছোট ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালীদের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন নির্যাতন কমাতে স্থানীয় প্রশাসনের সচেতনতা বাড়ানো দরকার। নির্যাতিত যুবকের পরিবার এখনও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেনি, কিন্তু তারা বলছেন, "আমরা আইনের সাহায্য নেব যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।" পুলিশের তদন্তের ফলাফল এখন সকলের অপেক্ষা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com