শ্বশুরের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে এক গৃহবধূর হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রংপুর নগরীতে। এই মামলায় নিহতের স্বামী সোহান মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা সোহানকে পঞ্চগড় জেলার সদর থানার মিলগেট এলাকা থেকে শুক্রবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া শ্বশুর রাজা মিয়াকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সাড়ে তিন বছর আগে বদরগঞ্জ থানার নাটারাম এলাকার মেনাজুল হকের মেয়ে মিতু আক্তার (২২)-এর সঙ্গে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানার বালাপাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে সোহান মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১০ মাসের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর রাজা মিয়া পুত্রবধূ মিতুর ওপর কুনজর ফেলেন। বাড়িতে একা পেলেই তাকে যৌন নিপীড়ন করতেন। এই অত্যাচারের কথা মিতু তার স্বামী সোহানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের জানালেও কোনো প্রতিকার করা হয়নি। বরং ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য হত্যাসহ নানা হুমকি দেওয়া হয়।
অতিষ্ঠ হয়ে মিতু গোপনে শ্বশুরের যৌন হয়রানির ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও করে তার ভাইয়ের কাছে পাঠিয়ে দেন। এই ভিডিও জানাজানি হওয়ার পর মিতুর ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে মিতুর পরিবারকে ফোন করে জানানো হয় যে, তিনি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু পরিবারের লোকজন এসে দেখেন, লাশ খাটিয়ায় রাখা এবং গলায় ফাঁসের কোনো চিহ্ন নেই। নিহতের পরিবার অভিযোগ করে যে, এটি পরিকল্পিত হত্যা। ঘটনার পর শ্বশুর, স্বামী এবং শাশুড়ি পলাতক হয়ে যান।
এই ঘটনায় নিহত মিতুর বাবা মেনাজুল হক ১ অক্টোবর রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালী থানায় শ্বশুর রাজা মিয়া, স্বামী সোহান মিয়া, শাশুড়িসহ চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় যৌন নিপীড়ন এবং হত্যার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী আসামিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। এরপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সোহানকে গ্রেফতার করে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অপরাধ) তোফায়েল আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গ্রেফতারকৃত সোহানকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” পুলিশের তদন্তে যৌন হয়রানির ভিডিওকে ক্লু হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
এই ঘটনা নারী নির্যাতন এবং পারিবারিক সহিংসতার একটি দুঃখজনক উদাহরণ। স্থানীয়রা বলছেন, যৌন হয়রানির মতো অপরাধ প্রকাশ পেলে প্রায়ই ভুক্তভোগীদের উপর চাপ বাড়ে, যা হত্যার মতো ঘটনায় পর্যবসিত হয়। পুলিশের তদন্তে আরও তথ্য উঠে আসতে পারে, যা এই মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। নিহতের পরিবার দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এমন ঘটনা রোধে সচেতনতা এবং আইনি সুরক্ষা জোরদার করার দাবি উঠেছে সমাজের বিভিন্ন মহলে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com