টেকনাফ সীমান্তে মাদকচক্রের ওপর চাপ বাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) টানা বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের মংডুর বাসিন্দা মো. হাকিম আলীকে আটক করেছে। নাফনদী ও সীমান্তঘেঁষা এলাকা জুড়ে অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে ইয়াবা পাচারকারীদের ওপর বড় ধাক্কা দিয়েছে বিজিবি।
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) জানায়, গত ১৪৪ ঘন্টায় ছয়টি পৃথক অভিযানে মোট ৪,৪১,৯২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। কয়েকজন পাচারকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দু الشুক্কুর বলেন,
“প্রতিদিনই ইয়াবা পাচারের খবর শুনতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির অভিযান চোখে পড়ার মতো বাড়ছে। এতে সীমান্তে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরছে।”
আরেক বাসিন্দা হাসিনা বেগম বলেন,
“নাফনদী দিয়ে রাতের অন্ধকারে নৌকা আসে–যায়। এদের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা বিপদে পড়ে। বিজিবির কঠোর অবস্থান আমরা স্বাগত জানাই।”
মো. জালাল ওরফে লাল জালাল (২৫), পিতা— কালা মিয়া, সাং— উলু সামারি, ৬নং ওয়ার্ড, হ্নীলা, টেকনাফ
অজ্ঞাত ২–৩ জন
বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন,
“মাদকবিরোধী অভিযান আমাদের চলমান অগ্রাধিকার। সীমান্তপথে পাচারকৃত প্রতিটি চালান আটক করতেই আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। নাফনদীসহ ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।”
টেকনাফ-মংডু সীমান্তকে আন্তর্জাতিক মাদক কার্টেল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। নাফনদীর জটিল ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্তবর্তী জনবসতি এবং রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে বড় বড় চালান বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজিবির প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের কারণে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে।
আটক ব্যক্তিগতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট থানায় হস্তান্তরের পর ধ্বংসের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com