রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন মেরুল বাড্ডা এলাকায় সিএনজি গ্যারেজে হামলা, মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি এলাকায় জুয়া, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গত ১৭ মার্চ রাতে মেরুল বাড্ডার ল/৩ এলাকায় অবস্থিত ‘মজনু মিয়ার সিএনজি গ্যারেজে’ একদল ব্যক্তি প্রবেশ করে কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় গ্যারেজ মালিক আব্দুল খালেক (মজনু) বাড্ডা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা গ্যারেজে ঢুকে কর্মচারী মো. ইলিয়াস হোসেনকে ঘিরে ধরে এবং মালিককে ফোন দিতে চাপ প্রয়োগ করে। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে, যা গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মো. তোফাজ্জল হোসেন, মো. জয়নাল আবেদিন বাবু, মো. শাহজালাল এবং মো. সালাহউদ্দিন হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা মূলত গ্যারেজ মালিকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালায়।
আহত কর্মচারী মো. ইলিয়াস অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা নিজেদের ‘শ্রমিক দল’ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায় করে আসছিল এবং বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দিত। জীবিকার তাগিদে তারা এতদিন বিষয়টি চেপে রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্তদের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক কর্মীদের সখ্যতা রয়েছে এবং এ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও চলছে। এতে করে এলাকাজুড়ে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
গ্যারেজ মালিক আব্দুল খালেক মজনু বলেন, “অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী। তারা দীর্ঘদিন ধরে অযৌক্তিক দাবি করে আসছে। আমার কর্মচারীর ওপর হামলা চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু এই ঘটনাই নয়—মেরুল বাড্ডা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর, মাদক বাণিজ্য ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং অনেক পরিবার ভেঙে যাচ্ছে। অপরাধীদের একটি শক্তিশালী চক্র মহানগর শ্রমিক দলের কিছু নেতাকে প্রভাবিত করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করা গেলে বাড্ডার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলেন, “এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে মেরুল বাড্ডা অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে।”
বাড্ডা থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com