বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব ইউনিয়নের জানগ্রাম গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক যুবকের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত মোঃ ওছমান গনি ফারুক (৩৩) বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় ওছমান গনি বাদী হয়ে একই গ্রামের ৫ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে ওছমান গনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী বিবাদীদের সাথে তার পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার বাড়ির সামনে গালিগালাজ করে। পরবর্তীতে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিবাদীগণ দলবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১নং বিবাদী লোহার রড দিয়ে ওছমান গনিকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তার পিঠে লাগে। ২নং বিবাদী বাঁশের লাঠি দিয়ে ওছমান গনির ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত করে হাড়ভাঙা জখম করেন। এছাড়া ৩নং বিবাদী কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে বেদম মারপিট করেন। ওছমান গনির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন—জানগ্রামের মৃত কাদামের ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মৃত আবুল ফকিরের ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (৪৫), জাহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন (১৮), মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে মোঃ আজিজুল (৪৫) এবং মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাদিকুল (৩০)।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ওছমান গনির মা মোছাঃ আনজুমান আরা বেগম, বাবা মোঃ ফজলুর রহমান এবং প্রতিবেশী মোঃ মান্নান কাজীসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পারিবারিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে মামলা করতে কিছুটা দেরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বলে জানা গেছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com