নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর বিএনপি কর্মী মো. সালমান খন্দকার (২৫) হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং ভাড়াটে খুনি (কন্টাক কিলার) নয়ন ফকির ওরফে আশিককে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব গ্রামে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পথে বড় ধরনের অগ্রগতি হলো বলে মনে করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারকৃত নয়ন ফকির ওরফে আশিক উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব গ্রামের করিম ফকিরের ছেলে। লোহাগড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এসআই তারক বিশ্বাস ও পুলিশের একটি চৌকস দল এই অভিযান পরিচালনা করেন। আসামিকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত বছরের ৮ মে বৃহস্পতিবার রাতে সালমান খন্দকার ও তার বন্ধুরা লোহাগড়া উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় মধুমতি নদীর পাড়ে একটি পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। আনন্দঘন পরিবেশে পিকনিক শেষ করে রাত ১২টার দিকে শামুকখোলা গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরেন সালমান। তবে বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণ পরই একটি ফোন কল পেয়ে তিনি পুনরায় বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা রাতভর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো হদিস পাননি।
পরদিন শুক্রবার সকালে লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের কাউলডাঙ্গা বিলের মধ্যে একটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। অজ্ঞাত লাশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সালমানের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিখোঁজ সালমানের বলে শনাক্ত করেন। নিহত সালমান খন্দকার উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মো. খাজা খন্দকারের ছেলে এবং একজন সক্রিয় বিএনপি কর্মী ছিলেন
লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায় গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সালমান খন্দকার হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ভাড়াটে খুনি নয়ন ফকির ওরফে আশিককে গ্রেফতার করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় সাফল্য। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী এবং অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com