দেশে গত ১৭ বছরে গ্যাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিভিন্ন সেবাখাতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ ক্রমেই অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়ে এক ধরনের ‘দাসত্বের’ জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
বিশেষ করে গ্যাস সরবরাহ ও জ্বালানি খাতে অঘোষিত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে করে কৃত্রিম সংকট তৈরি, মূল্য বৃদ্ধি এবং সেবার মান কমে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। একইভাবে নিত্যপণ্যের বাজারেও একাধিক সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সেবাখাতে অনিয়ম এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার কারণে তারা দিন দিন অসহায় হয়ে পড়ছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই সিন্ডিকেট চক্রের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে এবং তারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ছেন।
একজন ভুক্তভোগী জানান—
“আমরা দিনমজুর মানুষ। গ্যাসের দাম, বাজারের দাম—সব কিছুই বাড়ছে। কিন্তু আমাদের আয় বাড়ছে না। সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ঠিকমতো চলতেই পারছি না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, তদারকির অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যের কারণে এসব সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা মনে করেন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি দ্রুত এই সিন্ডিকেট ভাঙা না যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনমান আরও নিম্নমুখী হবে এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়বে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি উঠেছে—এই সংঘবদ্ধ চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, সিন্ডিকেটের এই ‘শিকল’ ভাঙতে হলে শুধু সরকারের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য বাজার ব্যবস্থা, যেখানে তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্য ও সেবা পাবে এবং কোনো ধরনের প্রতারণা বা সিন্ডিকেটের শিকার হবে না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com