রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্য এলাকা গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া—যেখানে প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী ও ক্রেতার পদচারণা। কিন্তু এই কোলাহলের আড়ালেই চলছে নীরব এক চাঁদাবাজির জাল, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা।
অভিযোগ রয়েছে, নগর প্লাজা, সিটি প্লাজা, জাকির মার্কেট এবং ফুলবাড়িয়া-২ মার্কেট—এইসব বাণিজ্যিক ভবন ও মার্কেটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চক্র সক্রিয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ:
সবকিছুই হয় নীরবে, কোনো প্রকাশ্য ভয়ভীতি ছাড়াই—কিন্তু অস্বীকার করার সুযোগও থাকে না।
এই চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি এখন বৈধতার ছদ্মবেশে পরিচালিত হচ্ছে।
ফলে ব্যবসায়ীরা বুঝলেও অনেক সময় প্রমাণ করতে পারেন না যে এটি অবৈধ আদায়।
একজন ছোট দোকানদারের জন্য মাসিক অতিরিক্ত চাঁদা মানে বড় চাপ।
অনেক ক্ষেত্রে এই আর্থিক চাপে পরিবারে অশান্তি তৈরি হচ্ছে, সন্তানদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে।
এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের প্রভাব পড়ছে তরুণ প্রজন্মের ওপরও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে সমাজের জন্য বড় হুমকি।
ব্যবসায়ীদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন—
এই ভয় ও নীরবতার কারণেই চক্রগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
এলাকাভিত্তিক এই চাঁদাবাজি বন্ধে প্রয়োজন—
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এই সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রয়োজন:
এককভাবে নয়, সবাই মিলে প্রতিবাদ করতে হবে।
চক্র ভেঙে দিতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ জরুরি।
সমিতি বা সংগঠনের নামে কোনো অর্থ আদায় হলে তা স্পষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে হবে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে যদি ব্যবসায়ীরা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে তা পুরো অর্থনীতির জন্যই অশনিসংকেত।
নীরব চাঁদাবাজি আজ শুধু একটি আর্থিক সমস্যা নয়—এটি সামাজিক অবক্ষয়ের একটি বড় লক্ষণ।
এখনই সময়—এই অদৃশ্য চক্রকে দৃশ্যমান করে ভেঙে ফেলার।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com