ঝিনাইদহের মহেশপুরে বহুল আলোচিত এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক নাটকীয় মোড় সামনে আসছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ গ্রেফতারের পর এবার তার স্ত্রী বাদী হয়ে দায়ের করা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকি মামলায় আরও তিনজনকে গ্রেফতার করেছে মহেশপুর থানা পুলিশ। পুরো ঘটনাকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহেশপুর উপজেলার ১নং এসবিকে ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের গোহাটার পাশে রাজনৈতিক সহকর্মী ফিরোজের ভাড়াটিয়া বাসায় যান সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ। এ সময় ফিরোজ বাড়িতে না থাকলেও তার স্ত্রীকে একা পেয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে আচরণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ওই নারী চিৎকার করলে স্থানীয় মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমান ছোটসহ আরও কয়েকজন সেখানে গিয়ে সাজ্জাদকে আটক করেন। পরে ফিরোজ ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি প্রকাশ করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন ও মারধরের ভয় দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে সাজ্জাদ ১ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। পরে তার বাড়ি থেকে সোনালী ব্যাংক মহেশপুর শাখার একটি চেক বই আনিয়ে মাহবুবুর রহমানের নামে ১ লাখ টাকার চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাজ্জাদের স্ত্রী তহমিনা শম্পা বাদী হয়ে গত ৯ মে মহেশপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৮৫/৩৮৬/৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ হামিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামি মাহবুবুর রহমান (৩০), মিজানুর রহমান ছোট (৩৫) ও ফিরোজ (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com