ময়মনসিংহে এক ভয়াবহ ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রিমী কায়সার আনোয়ারের মাকে নিজ ঘরে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। এ সময় বাধা দিতে গেলে আনোয়ারের ছোট ভাই মুন্না ও তাদের বাবাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জবাই করে গুরুতর জখম করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে খুনিকে ঘরের ভেতর আটকে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রিমী কায়সার আনোয়ারের মা ঘরে একাই ছিলেন। এই সুযোগে ঘাতক ভেতরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে। মায়ের এই পরিণতি দেখে ঠিক তখনই বাসায় প্রবেশ করে আনোয়ারের ছোট ভাই মুন্না। খুনিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ঘাতক মুন্নাকেও নির্মমভাবে জবাই করার চেষ্টা করে এবং তার গলায় ও শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।এর কিছুক্ষণ পর আনোয়ারের বৃদ্ধ বাবা বাসায় ফিরলে তাকেও রেহাই দেয়নি ওই খুনি। বৃদ্ধের ওপর চড়াও হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে ঘাতক। ঘর থেকে আসা তীব্র চিৎকার ও গোঙানির শব্দ শুনে আশপাশের এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খুনি পালানোর চেষ্টা করলেও উপস্থিত জনতা সাহসিকতার সাথে তাকে ঘরের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে ফেলেন।খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং অবরুদ্ধ খুনিকে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে হেফাজতে নেয়। এদিকে গলাকাটা ও রক্তাক্ত অবস্থায় ছোট ভাই মুন্না এবং তার বাবাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এই বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি তুলেছেন। সমাজে দিন দিন মানুষের নৈতিক অবক্ষয় ও এমন হিংস্রতা কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আটককৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com