[caption id="attachment_18384" align="alignnone" width="300"]
গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার[/caption]
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
গ্রাহকের অজান্তে ক্রেডিট কার্ড ইস্যু ও ব্যবহার করে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃত সারোয়ার হোসেন (৪০) একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সিআইডি জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার (৮ জুন) বিকেলে রাজধানীর গুলশানের ৩২ নম্বর রোডের কমার্শিয়াল কোভ ভবন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এক গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন। পরে কার্ডটির প্রয়োজন না হওয়ায় তিনি সেটি ব্যাংকে ফেরত দেন। তবে অভিযুক্ত সারোয়ার হোসেন কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। এরপর একটি ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করে কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন এবং ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) গ্রহণের ব্যবস্থা করেন।
এই কার্ড ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক আর্থিক লেনদেন চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি ভুক্তভোগী গ্রাহক ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদন থেকে জানতে পারেন যে, তাঁর নামে বড় অঙ্কের ঋণ ও আর্থিক দায় রয়েছে, অথচ তিনি কোনো ঋণ নেননি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের পর বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দণ্ডবিধির (পেনাল কোড) ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অভিযুক্ত সারোয়ার ভুক্তভোগীর অজান্তে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকা লেনদেন করেন। এর মধ্যে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হলেও অবশিষ্ট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন।
সিআইডি আরও জানায়, ব্যাংকে কর্মরত অবস্থায় সারোয়ার গ্রাহকের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এই জালিয়াতি করেন। ২০১৯ সালে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও তিনি ওই ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অবৈধ লেনদেন চালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সারোয়ার হোসেন জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। তিনি অন্য কোনো গ্রাহকের সঙ্গেও এমন প্রতারণা করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) ইউনিট। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com