চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার পড়ৈইকড়া ইউনিয়নের চেনামতি এলাকায় সংঘটিত আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানা পুলিশের সমন্বয়ে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ব্যাপক তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার পর আসামি রিমন বড়ুয়া দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনের চেষ্টা করে। তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে গত রাতে পটিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আনোয়ারা থানা পুলিশের যৌথ দল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যমতে, ভিকটিম পরিবারের বাড়িতে সংরক্ষিত সুজন বড়ুয়ার ঋণসংক্রান্ত স্ট্যাম্প চুরির উদ্দেশ্যে সে একটি ধারালো চাকু নিয়ে বাড়ির পেছনের দরজার বাইরে ওঁৎ পেতে ছিল। এ সময় এনি বড়ুয়া ঘর থেকে বের হয়ে তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আসামি তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করে। পরে এনি বড়ুয়ার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া মায়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় আসামি ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের বাড়ির পেছনের একটি খাল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পটিয়া রেললাইনের পাশের একটি ডোবা থেকে এনি বড়ুয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুর্গম এলাকায় আত্মগোপন, বারবার অবস্থান পরিবর্তন এবং আলামত গোপনের চেষ্টা সত্ত্বেও পেশাদার তদন্ত, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তারা সর্বদা বদ্ধপরিকর। এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com