জর্ডানে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার এবং অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের একটি বিশেষ দল গত ১৪ জুন রাজধানীর উত্তর বাড্ডার রূপায়ণ মিলেনিয়াম স্কয়ারে অবস্থিত ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’-এর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মাঞ্জুর প্রধানিয়া (৩৫), মো. ওসমান গনি (২৫) এবং কাজী মো. আতা-ই-রাব্বি (২৮)।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত ‘জেরাশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ফ্যাশন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর নাম, লোগো ও সিলমোহর জাল করে প্রতিষ্ঠানটি চাকরিপ্রত্যাশীদের আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখাত। পরে জনপ্রতি ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জর্ডানে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানির অভিযোগের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো হলে তা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিআইডির মানব পাচার মনিটরিং সেলের নজরে আসে। এরপর শুরু হয় অনুসন্ধান।
তদন্তে আরও জানা যায়, ‘সুরাহ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্রেডার্স’ একটি ট্রাভেল এজেন্সি হলেও তাদের কোনো বৈধ রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। অথচ প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জর্ডান, সৌদি আরব, সার্বিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থেকে ৫৫টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১৬টি বিদেশগমন-সংক্রান্ত চুক্তিপত্র, দুটি সিপিইউ এবং একটি ডিভিআর জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টগুলোর মধ্যে ১৮টি জর্ডানগামী এবং বাকি পাসপোর্টগুলো সৌদি আরবে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈধ অনুমোদন ও রিক্রুটিং লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হচ্ছিল, যা অভিবাসী চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
এ ঘটনায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বাড্ডা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিনজন ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, প্রতারণা ও মানব পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com