[caption id="attachment_18731" align="aligncenter" width="300"]
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধ: সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা নিহত, আহত ১[/caption]
বিশেষ প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি (ম্যানেজিং কমিটি) গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাইফুল্লাহ বারী (২৪) নামে এক ছাত্রশিবির নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর বন্ধু সালাউদ্দিন (৩০)।
রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি ইউনিয়নের শিমুলতাইর গোরস্থানপাড়া গ্রামের হবিবার রহমান মাওলানার ছেলে এবং রংপুরের ধাপ সাতগড়া মডেল কামিল মাদরাসার আল-কুরআন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের দাবি, কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। রোববার বিকেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ বোনারপাড়া বাজারে অবস্থানকালে কমিটি-সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিলেও অভিযোগ রয়েছে, পরে পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র ও লোহার শাবল নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় সাইফুল্লাহ বারীর গলায় গুরুতর আঘাত করা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সালাউদ্দিনকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্বজনরা সাইফুল্লাহকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
নিহতের বন্ধু মোবাশ্বের অভিযোগ করেন, বোনারপাড়া ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি মুকুল ও তাঁর ভাই পলাশ এ হামলার নেতৃত্ব দেন। তাঁদের হামলায় সাইফুল্লাহর গলায় শাবলের আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
অভিযুক্ত মুকুল ও পলাশ আপন দুই ভাই। তাঁরা একই ইউনিয়নের বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুকুল একসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তবে বর্তমানে তিনি সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com