ভারতীয় আধিপত্যবাদ, সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশইন ও পানি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা এবং গণযোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ‘জনতার দল’। আজ শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন থেকে আসা তিন শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জনতার দলে যোগদান করেন।
উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় প্রবীণ সাংবাদিক জাহাঙ্গীর চৌধুরী পতিত আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ভারত ও ইসরায়েল যোগসাজশের মাধ্যমে বাংলাদেশে তাদের আধিপত্য বিস্তার করেছিল এবং পরোক্ষভাবে দেশকে শাসন করে রেখেছিল, যা '২৪-এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ভেঙে পড়ে। তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে ভবিষ্যৎ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের জ্যেষ্ঠ কৌশলগত ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাব্বির আহমেদ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বলেন, "এদেশবাসীকে সবার আগে নিজেদের মাটিকে ভালোবাসতে হবে। আমাদেরকে শুধু পাসপোর্টে নয়, মন-মনন ও মগজে প্রকৃত বাংলাদেশি হতে হবে।"
বিশিষ্ট আইনজীবী ও বাংলাদেশ মঞ্চের উপদেষ্টা পারভীন সুলতানা তাঁর বক্তব্যে অভিন্ন নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা নিয়ে ভারতের নানা অনিয়ম, অনীহা ও অবৈধ জল-রাজনীতির বিভিন্ন দিক বিশদভাবে তুলে ধরেন।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র মেজর (অব.) ডেল এইচ খান সীমান্তে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতির সমালোচনা করে বলেন, "২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর মানচিত্র-খাদক শকুনরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যার অন্যতম প্রমাণ সাম্প্রতিক অবৈধ পুশইনের চেষ্টা।" দেশের সম্মুখ বিপদ মোকাবিলায় তিনি প্রতিটি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জনতার দল পুরো দেশবাসীকে এই প্রশিক্ষণ দিতে সদা প্রস্তুত।
জনতার দলের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আজম খান ভারতের একপেশে পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "ভারত যদি বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে তাকে এই দাসপ্রথার মানসিকতা থেকে বের হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।" তিনি বাণিজ্যিক ঘাটতি কমিয়ে আনার দাবি জানান এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন। এছাড়াও সম্প্রতি ভারতীয় এয়ারপোর্ট ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার সাথে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য ক্ষমার দাবি জানান তিনি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জনতার দলের নৈতিক কমিটির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মাহাবুবুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব মেজর (অব.) জাকির হুসেইন, সদ্য যোগদানকৃত যুগ্ম মহাসচিব ফুয়াদ সাকী, বিশিষ্ট সমাজসেবী জাহান আরা আবেদীন, মেরিন ক্যাপ্টেন রেদোয়ান শিকদার, বিশিষ্ট কৃষিবিদ শাহাবুদ্দিন ফরাজি, শেখ মামুন এবং জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা আফসানা মনা ও জামাল।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com