খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বারবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ চুরির ঘটনায় একটি পানির মোটর, একটি সিলিং ফ্যান এবং একটি পানির বেসিন চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রথম চুরির ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার সরকারি মালামাল চুরি হলেও এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ফুট লোহার পানির পাইপ, ছাদের রড এবং একটি পানির মোটর চুরি হয়। ওই ঘটনার পর একই বছরের ৩০ অক্টোবর দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৭ মে আবারও চুরির ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও চুরির ঘটনা বন্ধ হয়নি।
সেনহাটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নুসরাত জাহান শারমিন বলেন, “বারবার সরকারি সম্পদ চুরি হওয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে সরকারি সম্পদ সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে চুরি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার না হলে শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com