রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন বস্তি ও আশপাশের এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিংয়ের জন্য ব্যবহৃত কথিত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তার, চার্জিং পয়েন্ট ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ এবং একাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
২৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ দিবাগত রাতে ডিসি ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ জনাব মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন, পিপিএম-বার-এর তত্ত্বাবধানে কাফরুল ও রূপনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
কোথায় কোথায় অভিযান?
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কাফরুল থানাধীন কাফরুল স্টাফ কোয়ার্টার সংলগ্ন পকেট বস্তি এলাকা এবং রূপনগর থানাধীন ঝিলপাড় বস্তি, চলন্তিকা বস্তি ও টিনশেড বস্তি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিংয়ের নামে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কোনো ধরনের অবৈধ সংযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা কিংবা বিদ্যুৎ চুরির ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিয়ন্ত্রণ করা।
অভিযানে কী পাওয়া গেল?
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
- ২০০ মিটার বৈদ্যুতিক তার, যার আনুমানিক ওজন ৭০ কেজি;
- ৫০০টি চার্জিং পয়েন্ট;
- ৩টি চার্জিং অ্যাডাপ্টার;
- একাধিক বৈদ্যুতিক মিটার;
- এবং ১০টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অভিযানে ডেসকো (DESCO) ও ডিপিডিসি (DPDC)-এর সহযোগিতা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও পিওএম ফোর্সের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।
অনুসন্ধানের প্রশ্ন: বস্তিতে কীভাবে গড়ে উঠছে চার্জিং নেটওয়ার্ক?
মিরপুরের বিভিন্ন বস্তি এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে উঠেছে রিকশা চার্জিংয়ের বিভিন্ন কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বৈধ কি না, অনুমোদিত মিটার থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে।
একটি সংযোগ থেকে একাধিক চার্জিং পয়েন্ট পরিচালনা করা হলে বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান
অভিযানে এসি ট্রাফিক-পল্লবী জোন, এসি ট্রাফিক-মিরপুর জোন, এসি ট্রাফিক-দারুসসালাম জোন এবং পুলিশ পরিদর্শক শওযাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বজায় রাখা এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দৈনিক অপরাধচক্রের অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ
শুধু অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মিরপুরের বস্তি ও রিকশা চার্জিংকেন্দ্রগুলোতে কারা সংযোগ দিচ্ছে, কীভাবে মিটার বসানো হচ্ছে, কার অনুমতিতে শত শত চার্জিং পয়েন্ট পরিচালিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী রিকশা চার্জিংকেন্দ্রের মালিকদের হয়রানি না করে অবৈধ সংযোগ ও বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
দৈনিক অপরাধচক্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য ও পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
সূত্র: ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
দৈনিক অপরাধচক্র
“অপরাধীর মুখোশ উন্মোচনের সম্মিলিত বিবেকের নিরপেক্ষ প্রকাশ”
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com