অগ্রনী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সার্ভিস হঠাৎ বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ রাজধানীর মতিঝিলস্থ শাপলা চত্বরে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অগ্রনী ব্যাংক এজেন্ট ঐক্য পরিষদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৪০-৪৫ জন এজেন্ট ও তাদের প্রতিনিধি অংশ নেন।
তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের এই হঠকারী সিদ্ধান্তে প্রায় তিন হাজার পরিবারের জীবিকা হুমকিতে পড়েছে, ৫৫০ জন এজেন্ট আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এবং ১০ লক্ষেরও বেশি গ্রাহকের ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ দুপুর ১২টা ০৭ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচিতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার বহন করেন, যেখানে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু রাখার এবং হাজার হাজার পরিবারের জীবিকা রক্ষা করার দাবি জানানো হয়। কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা, যাতে এই বিষয়টি সরকারের নজরে আসে এবং দ্রুত সমাধান হয়।
এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন অগ্রনী ব্যাংক এজেন্ট ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আবু সাঈদ। তার সঙ্গে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মেজাবাউল হক মেজবা, যুগ্ম সদস্য সচিব রাজেস মন্ডল এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন চন্দ্র মাহাতোসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা তাদের বক্তব্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে অগ্রনী ব্যাংকের ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং সার্ভিস বন্ধ হলে শুধু এজেন্টরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষ, যারা ব্যাংকিং সেবার জন্য এজেন্টদের ওপর নির্ভরশীল, তারাও চরম ভোগান্তিতে পড়বেন।
আবু সাঈদ বলেন- আমরা অগ্রনী ব্যাংকের কাছে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনো সদুত্তর পাইনি। এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস। হুট করে এই সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়াটা আমাদের জন্য এক বিরাট ধাক্কা। তিনি আরও বলেন- আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে এসেছি এবং আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের কথা শুনবে।
যুগ্ম আহ্বায়ক মেজাবাউল হক মেজবা বলেন, “এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ, কৃষক, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এর মাধ্যমে সহজে টাকা জমা ও উত্তোলন করতে পারতেন। এখন এই সেবা বন্ধ হওয়ায় তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” তিনি জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন এবং আশা করছেন যে কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি বিবেচনা করবে।
অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন শাপলা চত্বরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৫-১০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। জানা যায়, অবস্থান কর্মসূচি শেষে প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করবেন, যাতে তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানানো যায় এবং এই সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়।
এজেন্ট ব্যাংকিং সার্ভিস বন্ধের এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে অগ্রনী ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় এজেন্ট এবং গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারে এজেন্ট ব্যাংকিং একটি অপরিহার্য মাধ্যম। তাই এই ধরনের সেবার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অগ্রনী ব্যাংক এই সংকট সমাধানে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com