চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সমন্বয়ে গঠিত জোট। ‘দ্রোহ পর্ষদ’ নামে এই প্যানেল রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দাখিল করেছে।
ছাত্র ইউনিয়ন চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফাজ উদ্দিন ইমু গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "চাকসু নির্বাচনে আমরা একটি আদর্শিক, প্রগতিশীল ও পরিবর্তনকামী প্যানেল গঠন করেছি। আমাদের এই প্যানেল শুধুমাত্র নির্বাচনে অংশগ্রহণ নয়, বরং ছাত্ররাজনীতিতে মূল্যবোধ, গণতন্ত্র ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এগোবে।"
ঘোষিত প্যানেল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট চবি শাখার সাধারণ সম্পাদক ঋজুলক্ষ্মী অবরোধ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। শিক্ষাঙ্গনে সংস্কৃতি চর্চা ও নারীর অধিকার প্রশ্নে বরাবরই সক্রিয় ছিলেন এই ছাত্রনেত্রী।
সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইয়াজ উদ্দিন ইমু। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ইমু দীর্ঘদিন ধরে চবি ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
যুগ্ম সম্পাদক (এজিএস) পদে মনোনীত হয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির। তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক অধিকার ও আবাসন সমস্যা নিয়ে নিয়মিত বক্তব্য ও কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
‘দ্রোহ পর্ষদ’ জোটের নেতারা জানান, তারা ছাত্রসংসদকে প্রহসনে পরিণত হতে দিতে চান না। বরং চাকসুকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে তারা মাঠে নামছেন। প্যানেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষমতাকেন্দ্রিক দলীয় ছাত্র রাজনীতির বাইরে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তারা নিয়ে এসেছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা ছাত্রদের প্রকৃত সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাই। গণপরিবহন সংকট, আবাসন ঘাটতি, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, ছাত্রদের নিরাপত্তাহীনতা—এই সব ইস্যুগুলো ছাত্রসংসদের মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা হবে।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিত্বের অভাবে কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে এই সংস্থা। এবার নতুন নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আলোচনার ঝড় বইছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষণা অনুযায়ী, আসন্ন চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা চলমান রয়েছে। এর মধ্যেই ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রফ্রন্টের যৌথ প্যানেল ‘দ্রোহ পর্ষদ’ প্রথম প্যানেল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করল।
ছাত্রজোট নেতারা জানান, তারা নির্বাচনের মাধ্যমেই ছাত্র রাজনীতিকে মূল্যবোধের পথে ফিরিয়ে আনতে চান। শিক্ষাঙ্গনে মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব গঠনের জন্যই ‘দ্রোহ পর্ষদ’ একটি সচেতন পদক্ষেপ।
ভবিষ্যতে তারা আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবেন বলে জানান।
প্রকাশক ও সম্পাদক:- আমিনা খাতুন ইভা
নির্বাহী সম্পাদক: জাহাঙ্গীর আলম ভিপি
All rights reserved ©2026 dailyaparadhchakra.com