চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে "ইকিউ-২" শিক্ষা কোটার অধীনে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এ সিদ্ধান্ত হাইকোর্টের দেওয়া একটি স্থগিতাদেশের আলোকে নেওয়া হয়েছে। পূর্বে, ১০ আগস্ট শিক্ষা কোটাসংক্রান্ত একটি ভর্তি নির্দেশিকা জারি করেছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি, যেখানে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা এই কোটার আওতায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবেন।
তবে বাস্তবে দেখা গেছে, এই কোটার আওতায় ভর্তির ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী ভুয়া পরিচয় ও জাল নিয়োগপত্র দেখিয়ে এই সুযোগ গ্রহণ করেছে। এমনকি দেখা গেছে, সরকারি চাকরিজীবী না হয়েও কিছু ব্যবসায়ী ও বেসরকারি চাকরিজীবীর সন্তান এই কোটায় আবেদন করেছেন এবং বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছেন।
এই অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আদালতে একাধিক রিট দায়ের হয়। এরপর হাইকোর্ট শিক্ষা বোর্ডকে কোটা কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে আপাতত ইকিউ-২ কোটার আওতায় কোনো শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে না।
বোর্ড জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই কোটার আওতায় কোনো নতুন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে না। তবে ইতোমধ্যে যারা এই কোটার আওতায় ভর্তি হয়েছে, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শিক্ষা মহলে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোটাভিত্তিক ভর্তির মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কীভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই আবেদনকারীদের ভর্তি দেওয়া হলো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত করছে।
এই ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা এবং কোটাব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com