বাংলাদেশের ধ্রুপদী নায়ক অমিত হাসান ও আমিন খানের জীবন যেন একটা রঙিন চলচ্চিত্রের মতো। তারা দুই ভাইয়ের মতোই ঘনিষ্ঠ, কিন্তু তাদের সম্পর্কের একটা মজার ও হৃদয়স্পর্শী অধ্যায় হলো আমিন খানের বিয়ের ঘটনা।
অমিত হাসানের স্ত্রী ও আমিন খানের স্ত্রী খালাতো বোন- এই সম্পর্কের জন্য তাদের পরিবারগুলো এখন একই ছাদের নিচে। কিন্তু এই বন্ধন গড়ে উঠেছে একটা শুটিং স্পটের দুষ্টুমি থেকে, যা পরে সত্যিকারের সুখের গল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অমিত হাসান, যার আসল নাম খান্দকার সাইফুর রহমান, বাংলাদেশের সিনেমার একজন জনপ্রিয় চরিত্র। তিনি ১৯৯০ সালে 'চেতনা' ছবিতে অভিনয় শুরু করেন এবং পরবর্তীকালে 'আমর সঙ্গী', 'জ্যোতি'সহ অসংখ্য হিট ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেন। অন্যদিকে, আমিন খান খুলনার ছেলে হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৩ সালে 'অবুঝ দুটি মন' ছবিতে ডেবিউ করে। 'দুনিয়ার বাদশা', 'হৃদয় থেকে হৃদয়', 'তোমার জন্য ভালোবাসা'সহ ২০০-এর বেশি ছবিতে তার অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছে। বর্তমানে আমিন খান ওয়ালটন গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুই ভাইয়ের মতো বন্ধুত্ব শুধু স্ক্রিনে নয়, বাস্তবে ও অটুট।
গল্প শুরু হয় একটা শুটিং স্পটে। অমিত হাসানের একটা ছবির মুখোমুখি কাজ চলছিল। সেদিন তার স্ত্রী সেটে এসেছিলেন, যিনি আমিন খানের স্ত্রীর খালাতো বোন। আমিন খানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুষ্টুমির ছলে আমিন জিজ্ঞাসা করেন, "আপনার কোনো বোন আছে কি? বিয়ের জন্য খুঁজছি তো!" সবাই হেসে ওঠে। কিন্তু এই মজার কথা আমিনের জীবনে একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। অমিত হাসানের স্ত্রী সিরিয়াস হয়ে বলেন, "হ্যাঁ, আছে। আমার খালাতো বোন। দেখি কী হয়।" এরপর অমিত ও তার স্ত্রী মিলে আমিনের জন্য সেই 'বোনকে' খুঁজে বার করেন। কয়েক মাসের পরিচয়, কথাবার্তা এবং পরিবারের সম্মতির পর আমিন খানের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিয়ে হয়। এখন তারা দুজনের সুখী দম্পতি, এবং এই বিয়ে শুধু দুই পরিবারকে কাছে এনেছে না, বরং অমিত-আমিনের ভাইয়ের মতো সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে।
এই ঘটনা শুনে অনেকেই অবাক হন। কারণ, সেলিব্রিটিদের জীবনে প্রায়ই রোমান্টিক গল্পগুলো স্ক্রিনের মতোই ড্রামাটিক হয়। কিন্তু আমিন খানের ক্ষেত্রে এটা একটা সাধারণ দুষ্টুমি থেকে শুরু হয়ে সত্যিকারের ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে। অমিত হাসান বলেন, "আমরা ভাইয়ের মতো, তাই তার সুখ আমার সুখ। সেই দিনের মজা আজও মনে পড়লে হাসি পায়।" আমিন খানও যোগ করেন, "ভাইয়ের সাহায্য ছাড়া এই জীবন সম্ভব হতো না।" তাদের স্ত্রীরাও এই সম্পর্ককে 'পারিবারিক বন্ধনের সেরা উদাহরণ' বলে মনে করেন।
এই গল্প থেকে শিক্ষা মিলে যায় যে, জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই বড় পরিবর্তন আনে। অমিত ও আমিনের মতো তারা দুজন যখন একসঙ্গে স্ক্রিনে দেখা যায়, তখন দর্শকরা শুধু অভিনয় নয়, তাদের বাস্তব বন্ধুত্বও অনুভব করেন। ছবির প্রমোশনে তারা প্রায়ই একসঙ্গে উপস্থিত হন, এবং এখন তাদের স্ত্রীরাও যোগ দেন। এই চারজনের ছবি দেখলে মনে হয়, জীবন যেন একটা হ্যাপি এন্ডিং-যুক্ত ফিল্ম।
বাংলাদেশের সিনেমা জগতে এমন গল্প কমই শোনা যায়। এটা প্রমাণ করে যে, তারা শুধু তারকা নন, সাধারণ মানুষও। তাদের এই সম্পর্ক দর্শকদের মধ্যে অনুপ্রেরণা ছড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে তাদের আরও এমন মজার গল্প শুনতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com