এটা পড়ার টেবিলে রাখা কোন এলোমেলো বই নয়! যে গুছিয়ে না রাখলেই বা কী হবে? পড়তে পারলেই তো হয়! অথবা এক বছর পরে আর তো এই বইগুলো আর লাগবে না, তাই এই গুছানোটাই অনর্থক! যদিও বই গুছিয়ে না রাখাও কোন নৈতিক চরিত্রবানের যথার্থ কাজ নয়।
এবার প্রসঙ্গে আসছি, পটুয়াখালী জেলার লাউ কাঠি বাজার সংলগ্ন রাস্তার উপরে পরে থাকা রোলারটির জীবদ্দশায় মৃতের স্বাদ নেয়ার নেপথ্যে কিছু কাহিনি নিয়ে।
রাস্তায় দিব্বি পরে আছে রোলার। যার কাজ সমান করা। অথচ সে নিজেই অসম অন্তরাল পরিবেশে হাবুডুবু খাচ্ছে। যার চাকায় দেশের সড়কের উন্নয়ন হবার কথা! সে নিজেই আজ অভিভাবকহীন, বেওয়ারিশভাবে পরে ভাঙ্গা রাস্তায়!
কবে যে রাস্তার উন্নয়ন হবে? কবে যে ডাক পরবে এই অভাগা রোলারের! তা কে জানে?
জানা যায়- কয়েক বছর ধরে পরে থাকা এই রোলারটি যেমন রাস্তা আটকিয়ে জনসাধারণের চলার পথের অসুবিধা সৃষ্টি করছে তেমনি এই রোলারটিরও যথাযথ কর্তৃপক্ষ খোঁজ না রাখায় দীর্ঘদিনের অবহেলায় নিজের শরীরের জৌলুশ হারিয়ে রোলারটিও হয়তো ডাক আসতে চলছে আকাশের চিল বা শকুনের মতো মৃতের গন্ধ শুকে যারা ঠুকরে খায় তাদের মতো, মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকা নিস্তেজ দেহ নিয়ে!
তাই হয়তো কখনো কোন ভাঙ্গারির দোকানির দোকানে এই রোলারটির হাত- পা বা শরীরের কোন অংশ বিক্রি হতে দেখা গেলে তখন আশ্চর্য হবার কিছু থাকবে না!
কারণ এটাই হবার কথা- যে দেশেশিক্ষার আলো যারা ছড়িয়ে দিতে চায় জাতীর মেরুদণ্ড ঠিক রাখবে, আজ তারাই যখন বেতন ভাতা বৃদ্ধিতে আন্দোলনে নামে তবে যে সেই দেশের সড়ক, মহা সড়ক, রাস্তা মেরামত করবে যে রোলার সে যে অবহেলায় থাকবে না, তা কি হয়?
তাই কোটি কোটি রাষ্ট্রের টাকায় কেনা এমনও হাজারো যান পরে অবহেলা, অযত্নে। যাদের দেখার কথা তাদের, তারা মাস গেলেই বেতন নিচ্ছে ঠিকই শুধু মাত্র সঠিক জবাবদিহিতার অভাবে দেশ হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত তেমন আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে ভয়াবহ পর্যায়ের!
কেউ কি বলতে পারবে এমন একটা রোলার এর সমমূল্যের টাকায় কজন নিতান্তই দুস্থকে আর্থিক সহায়তা করা যেত? কজন বেকারকে দেয়া যেত লক্ষাধিক টাকার ঋণ? বা ইত্যাদি ইত্যাদি
তাই এই মুহূর্তে মনে পরে, এক বিখ্যাত ব্যবসায়ীর একটি বাস্তব গল্পের কথা-
সম্ভবত জার্মান শহরের কোন এক বিখ্যাত রেস্তোরাঁয় সেই বিখ্যাত ব্যায়সায়ী এক সঙ্গীকে লাঞ্চ করতে বসলেন। অনেক খাবার তারা অর্ডার করলেন। তারা যৎসামান্যই খেলেন।
তখন ওয়াটার এসে বললেন- আপনারা কি আর কিছু নিবেন না? উত্তরে ব্যবসায়ী বললো- না।
এগুলো সরিয়ে নিন। তখন তাদের দিগে তাকিয়ে সেই ওয়েটার বললো- অনেক খাবার নষ্ট করলেন! তখন ব্যবসায়ী তার দিগে তাকিয়ে বললো- আমি তো বিল পে করে দিচ্ছি।
এবার আরো রাগান্বিত দৃষ্টিতে ওয়েটার ব্যবসায়ীর মুখের দিগে তাকিয়ে বললো- দেখুন এই খাবারটা আপনার হতে পারে কিন্তু এই সম্পদটা পৃথিবীর! আপনি চাইলেই পৃথিবীর এই সম্পদ ইচ্ছে খুশিতে নষ্ট করতে পারেন না!
এরপর ওয়েটার ফোন করে কাকে যেন ডাকলো তারা সম্ভবত তাদের দেশেরই কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তা৷ তারাও এসে বিষয়টি দেখে ব্যবসায়ীকে জরিমানা করে সেখান থেকে বিদায় করলো।
এ থেকে আমি, তুমি, আমরা যে যাই শিখি না কেন তা যদি আমাদের দেশে বাস্তবে একটি রাষ্ট্রের সুশাসন প্রতিষ্ঠায়, একটা দিগ নির্দেশনা ভিত্তিক আদর্শ-নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় তবে এই রোলারটির বর্তমান অবক্ষয় জনিত চেহারার দায় কতদূর অবধি পৌঁছাতে পারে, বলুন তো?
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com