বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদানগুলো স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে এমন কিছু সহজলভ্য উপাদান রয়েছে, যেগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীর সুস্থ ও সবল রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃতির এই উপহারগুলো শুধু রোগ প্রতিরোধেই নয়, শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুস্থ রাখতেও কার্যকর।
প্রথমেই বলা যায় কাঁচা রসুনের কথা। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অন্তত একটি কোয়া কাঁচা রসুন খেলে লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। রসুনের প্রাকৃতিক উপাদান শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি গলিয়ে দিতে সহায়তা করে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। তাই যারা ফ্যাটি লিভার বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য রসুন হতে পারে প্রাকৃতিক ওষুধ।
একইভাবে মেথির পানি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ জনপ্রিয়। রাতে এক চামচ মেথি ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে।
কালোজিরা আমাদের শরীরের জন্য এক অনন্য ভেষজ। প্রতিদিন এক চামচ কালোজিরা খেলে দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ইসলামিক চিকিৎসাশাস্ত্রসহ আধুনিক গবেষণাও কালোজিরার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, কাঁচা হলুদ রক্ত পরিষ্কারে কার্যকর ভূমিকা রাখে। হলুদের মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের ভেতরে জমে থাকা টক্সিন দূর করে এবং রক্তকে বিশুদ্ধ রাখে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
সবশেষে উল্লেখযোগ্য হলো লেবু ও জিরা পানি। এই পানীয় শরীরে বাড়তি মেদ কমাতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে লেবুর সঙ্গে জিরা মিশিয়ে পানি পান করলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়, চর্বি পোড়ে এবং অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।
সর্বোপরি, রসুন, মেথি, কালোজিরা, হলুদ ও লেবু– এ পাঁচটি প্রাকৃতিক উপাদান আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, এসব উপাদান গ্রহণের পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামও স্বাস্থ্য রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com