ডাক্তার আসিবার পূর্বে বা পরে রুগী মারা যাক বা না যাক, এমন একটি সেনটেনস কোন টেনস্ হবে? তা জানার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- বরিশালে পপুলার হাসপাতাল এর পপুলেশনের ভিড়ে আজ ডাক্তার দেখাতে পারবো তো?
এখানে ভীড় নেই! তা কে বলেছে? এখানে ফাঁকা যতটুকু আছে তার অস্তিত্ব কোনাও নেই! এটা বলাই উৎকৃষ্ট।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কত বিষয় ভিত্তিক প্রয়োজনীতার চাহিদা বাড়ছে, তা আমাদের দেশে একটি শহর- নগর গড়ে ওঠায় এলোমেলো অগোছালো যেভাবে গড়ে ওঠে তার ফলশ্রুতিতে যে সমস্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পরিকল্পনাবিদ রয়েছে তারা নিরবে নিভৃতে দেখেও কিছু বলে না। তারা কি এখন বলতে পারবে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাসপাতাল বা ক্লিনিক গুলো পর্যাপ্ত কি না?
সুনামের সঙ্গে গানিতিক হারে যারা রোগী দেখে ব্যবসা কার্য দীর্ঘ বছর ধরে করে আসছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ। তাদের যে কটি শাখা আছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বরিশালের বাংলাবাজার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ।
এখানে আসা কোন রোগীর হাতে বাজার কিম্বা মাছসহ বাজার হাতে না দেখলেও ভেতরে যদি কোন পন্য সামগ্রী সাজানো থাকতো তবে যে কেউ এটাকে কাঁচ বাজারের জমজমাট ভীড় মনে করলে হয়তো ভুল হতো না।
যদিও পপুলারের জনপ্রিয়তায় রোগীর এতটাই আমন্ত্রণ ঘটে, এখানে এটাকে কোথাও যেন কার হাট, বাইক হাট ইত্যাদি হাটের মতো রুগীর হাট বললেও আপনি বলতে পারেন। ভাগ্যিস এখানে এত মানুষের ভিড়ে আমি কোন বিবাহ যোগ্য পাত্র কিম্বা পাত্রী দেখতে আসিনি তবে নেহাৎ মনঃক্ষুণ্ন হয়ে চলে যেতে হতো, কারণ- এত রোগীর মধ্যে কেউ কি আসলে একটুও সুস্থ্য আছে? এটা ভাবাও হতে পারে বোকামি!
[caption id="attachment_13182" align="alignnone" width="1600"] লিফট কখন আসবে? অপেক্ষায় রোগী ও স্বজনরা[/caption]
তবে ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ্য হয়েছে যে রোগী; সে কে বা কাহারা তাদের কোন একত্রিত করণের আয়োজন নেই বলেই বলা দুস্কর যে, কত পার্সেন রোগী ডাক্তার দেখানোর পর সুস্থ্য হয় প্রতি বছর?
এবার আসি কিছু সমস্যা যেখান থেকে শুরু তার বর্ননা দেই।
* সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা থেকে শুরু ৬০০/- টাকার মধ্যে ডেঙ্গু ও কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ইনভেস্টিগেশনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারণ মূল্য তালিকায় এই তথ্যটি একটি ফেস্টুনে পপুলার কর্তৃপক্ষ টাঙ্গিয়ে রেখেছে। যদিও অন্যান্য টেস্টের কোন প্রচার বা পোস্টার বা ফেস্টুন চোখকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। ধরে নিন তা পাওয়া যায়নি।
* এত বেশি পেসেন্ট বা রোগী, তাদের বসার জায়গার অভাবে বা ভোগান্তিতে আমার মতো সল্প রোগ নিয়ে কেউ আসলে ভোগান্তির ভয়ে ডাক্তার না দেখিয়ে চলে যাবে এবং মনে মনে নিজেকে সুস্থ্য হয়ে গেছে ভেবেও নিতে পারে।
* ১০ তলা ভবনে সর্বত্রই এসি। যে'কটা এসি আছে তাদের জন্যও আশেপাশে কোন এসি মেরামত ক্লিনিক খোলা দরকার হতে পারে। কারণ- এরাও দীর্ঘদিন অসুস্থের সংস্পর্শে থাকতে থাকতে এখন আর কার্বনডাই-অক্সাইড চুষে নিতে ঠিকঠাক পারছে না। বুঝলাম, সম্ভবত এসিরাও মাঝেমধ্যে রোগাক্রান্ত বা রাগ করতে পারে, তাই হয়তো কার্বনডাই-অক্সাইড এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছে না। নাকি তাদের এবার সঠিক ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন?
আমি এসির মধ্যে আছি নাকি সাহারা মরুতে আছি তা শরীরে বারবার ঘাম মুছতে মুছতে বুঝতে চেষ্টা করছি!
* লিফট আছে তবে কখন তার সিরিয়াল আসবে তার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে সিড়ি বেয়ে যারা আমার মতো রাগ উঠে যেতে পারেন, শাল পতারা নির্বিঘ্নে এই বরিপুলারে আমন্ত্রিত। কারণ- এসেই বুঝবেন কখন লিফট জোটে?
* লিফট এখন ঘুমায়! দয়াকরে ডিস্টার্ব করবেন না। এমন লেখা যদি কোথাও থাকতো তবুও না ভেবে নিতাম বেচারা লিফট ক্লান্তিতে অসুস্থ্য হয়ে গেছে। কিন্তু কোন রকম তথ্য না দিয়ে ঘন্টা ধরে দাড় করিয়ে রাখবে এটা কেমন কথা? মনে মনে তাই লিফটকে বললাম- "ভাই লিফট আয় তোকে বাদাম খাওয়াবো আয়", তবুও লিফট আসলো না! একই কষ্টে একজনকে দেখলাম হুইল চেয়ার নিয়ে চলে যেতে, সম্ভবত রোগী তার বাবা ছিলো।
*লিফট আসলে কার? এটা লিফট নিজেও জানে না! একই লিফটে রোগী, রোগীর সহযোগী, আর যারা থাকে তারা হয়তো ভূক্তভূগী! তাই রোগী- ভোগী সব একাকার একই লিফটে। না আছে এমারজেন্সি রোগী বহনকারী লিফট, না আছে জরুরী টলি, হুইলচেয়ার ইত্যাদি বহনকারার জন্য আলাদা লিফট। চোখে পরলো বড় একটা লিফট কিন্তু তা বন্ধ। তাই ভোগান্তি পোহাবেন কিন্তু কিচ্ছু বলতে পারবে না, কারণ আপনি যদি ভদ্রলোক হন, তাতে ভদ্রতা কমে যেতে পারে, আর যদি ভদ্র নাও হন তবুও কিছু করার নেই এখানের সিস্টেমটাই গোলমেলে!
* নেই কোন হেল্পিং নার্স বা সেবক সেবিকা! আপনি এমন কাউকে খুঁজে পাবেন না, যারা আপনাকে নানা রকম সহায়তা করবে।
* যত্রতত্র ময়লা যা এমন একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে করে তুলছে নোংরা পরিবেশ।
তাই আপনি যদি ভাগ্যবান বা ভাগ্যবতী হন তবে তো এই বরিশালের পপুলারে এসে ডাক্তার দেখাতে পারবেন। কিন্তু যদি তা না হয় তবে আপনার ভাগ্যটা ভিন্নও হতে পারে।
আসলে মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে পৃথিবীর বেশ কটি দেশ স্বাস্থ্য সেবা ও শিক্ষা একদম ফ্রী করে দিয়েছে। কোন কোন দেশে যাতায়াত ব্যবস্থাও এখন ফ্রী করা হয়েছে। ধরে নিলাম আমাদের ভৌগোলিক ভাবে আমাদের অবস্থানের কারণে ভাগ্য সুপ্রসন্ন নয়!
তাই বলে নিজের পকেটের টাকা খরচ নিজের শরীরটাকে ঠিকঠাক রাখবো বলে একবার ডাক্তার দিয়ে চেকাপ করাতেও কি পারবো না? একটু শান্তিময় সুশৃঙ্খল পরিবেশে! এবার এই নিউজটা যদি কোন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয়, সেই অপেক্ষায় থাকলাম।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com