আদ-দ্বীন হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে কয়েকজন রোগী মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
সমালোচকদের দাবি, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সামগ্রিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। তাদের মতে, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো, সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও সেসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন সংকট ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় নিরূপণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেছেন।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত, স্বচ্ছ জবাবদিহিতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
এদিকে হাসপাতাল বন্ধের ঘটনায় রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অনেকে মনে করছেন, হাসপাতাল বন্ধের পরিবর্তে সেবার মান উন্নয়ন ও ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া অধিক কার্যকর হতে পারত।
স্বাস্থ্য খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সবার জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহল থেকে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com