বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কুপ্রেস পৌরসভার ঐতিহাসিক রাভনো মসজিদে দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় পর আবারও প্রতিধ্বনিত হতে যাচ্ছে আজানের সুমধুর আহ্বান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে ভেঙে পড়া এই প্রাচীন স্থাপনাটি বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
১৯৪০-এর দশকে যুদ্ধের আগুনে মসজিদের পাথরের গম্বুজ ও দেয়াল ধসে পড়ে, নীরব হয়ে যায় এর মিনার। এরপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় মুসলমানরা স্বপ্ন দেখেছেন একদিন হয়তো আবার এই মসজিদে নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে।
অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ১৭ মে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া পুনর্নির্মাণ কাজের কয়েক সপ্তাহ পর, ১০ জুলাই নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
এই মহতী উদ্যোগে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, মন্ত্রণালয়, পৌরসভা, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত দাতাদের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ক্রোয়েশিয়া ও মন্টিনেগ্রোর মুসলমানরাও অর্থ ও সহযোগিতা দেন। স্থানীয় প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্যের ফসল হিসেবে ধ্বংসস্তূপের জায়গায় আজ দাঁড়িয়ে আছে এক নবনির্মিত মসজিদ।
আগামী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান ড. হুসেইন কাভাজোভিচ। সেদিন রাভনোর আকাশে বহু প্রতীক্ষিত আজান ধ্বনিত হবে, যা স্থানীয় মুসলমানদের জন্য হবে এক ঐতিহাসিক পুনর্জাগরণের মুহূর্ত।
বাসিন্দারা মনে করছেন, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনার পুনর্নির্মাণ নয়, বরং একটি জাতির আস্থা, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পুনরুত্থান। ৮৫ বছরের নীরবতা ভেঙে মসজিদের মিনার থেকে আবারও উচ্চারিত হবে “আল্লাহু আকবার”, যা প্রমাণ করবে ঈমানের আলো কখনও নিভে যায় না।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com