ভোটার তালিকায় বিশেষ পর্যালোচনা (SIR) ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যে এবার সরব হল পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রভাবশালী মতুয়া সমাজ। নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে সম্প্রতি কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন মতুয়ারা, যা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
বিহারের সারনে ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর অংশ হিসেবে অবস্থান করছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানেই ২৪ সদস্যের মতুয়া প্রতিনিধি দল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় ১৫ মিনিটের আলোচনায় তারা জানান, এসআইআর-এর ফলে মতুয়া সমাজে অনিশ্চয়তা ও ভয় তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ জমেছে বিজেপির প্রতি।
রাহুল গান্ধী মতুয়া প্রতিনিধিদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাশে থাকার বার্তা দেন। বৈঠক শেষে মতুয়াদের মধ্যে স্লোগান ওঠে: “রাহুল দাদা কাম টু বেঙ্গল, এসআইআরে বিপদ, কংগ্রেসে নিরাপদ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নিছক প্রতীকী কোনো ঘটনা নয়। মতুয়া ভোটাররা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিগত নির্বাচনে তাদের সমর্থন পেতে বিজেপি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল—শান্তনু ঠাকুরকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করাও সেই প্রচেষ্টারই অংশ। তবে মতুয়া সমাজের বহু সদস্য এখনও নাগরিকত্বের স্পষ্ট সমাধান পাননি। বরং নতুন করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, এই বৈঠকে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা তপন হালদারও উপস্থিত ছিলেন। দল থেকে তাকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু এটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিজেপির ভিতরেই মতুয়া সমাজ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
রাজনৈতিক মহলের অভিমত, এই ক্ষোভ যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সেই ফাঁক গলে কংগ্রেস রাজ্যে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার সুযোগ পেতে পারে।
সারন বৈঠক হয়তো সময়ের হিসাবে স্বল্প, কিন্তু প্রভাবের দিক থেকে এটি হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের বার্তা।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com