মুকুট জয়ের মাত্র একদিন পরই ‘মিস গ্র্যান্ড প্রাচুয়াপ খিরি খান ২০২৬’-এর খেতাব হারালেন থাইল্যান্ডের সুন্দরী সুপান্নি নয়ননথং। ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একাধিক বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে আয়োজক কমিটি তার খেতাব বাতিল করে।
বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, সুপান্নি ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন, সেক্স টয় হাতে নাচছেন এবং স্বচ্ছ অন্তর্বাস পরে টিকটক কনটেন্ট তৈরি করছেন। আয়োজক কমিটির ভাষায়, এসব কর্মকাণ্ড প্রতিযোগিতার নীতি ও মূল্যবোধের পরিপন্থী।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “সুপান্নি নয়ননথং প্রতিযোগিতার চেতনা ও নীতিমালার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। তাই তার খেতাব বাতিল করা হয়েছে।”
সুপান্নির ব্যাখ্যা ও অনুশোচনা
২৭ বছর বয়সী এই সুন্দরী ফেসবুক পোস্টে জানান, অতীতে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে তিনি এসব কনটেন্ট তৈরি করেছিলেন। করোনা মহামারির সময় মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে ‘ওনলি ফ্যানস’-এ কাজ শুরু করেন। তবে এসব কনটেন্ট তার অনুমতি ছাড়াই অবৈধ জুয়া সাইটে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেন এবং এ বিষয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দেন।
তিনি লেখেন, “এটি আমার জীবনের বড় শিক্ষা। আমি প্রতিজ্ঞা করছি, ভবিষ্যতে আরও সচেতন থাকব এবং নিজেকে আরও ভালোভাবে গড়ে তুলব।”
আইনি জটিলতা ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ
২৩ সেপ্টেম্বর এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সুপান্নি দাবি করেন, তিনি মুকুট ধরে রাখার সুযোগ চান। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনজীবী চুক্তির একটি ধারা তুলে ধরে বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অশালীন ছবি বা ভিডিও প্রকাশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুপান্নি স্বীকার করেন, তিনি চুক্তিটি ভালোভাবে পড়েননি এবং ওই ধারা সম্পর্কে জানতেন না। আইনজীবী জানান, এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
জনমত বিভক্ত
ঘটনাটি থাইল্যান্ডজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কেউ সুপান্নির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে তার পরিস্থিতিকে মানবিক চোখে দেখতে বলছেন, আবার কেউ আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি তুলেছেন। আয়োজক কমিটি বলেছে, বিষয়টি নিয়ে তারা পুনর্বিবেচনা করছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com