কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালের পর যুক্তরাজ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ঠিক এমন সময় ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে এবং গাজায় যুদ্ধ জোরদার করছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
১৯৮৮ সালের ১৫ নভেম্বর আলজিয়ার্সে ইয়াসির আরাফাত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোষণা দেন। সঙ্গে সঙ্গেই আলজেরিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। এরপরে আরব, আফ্রিকা, এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের বহু দেশ ফিলিস্তিনকে সমর্থন করে। ২০১১ সালে লাতিন আমেরিকার অনেক দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় এবং একই বছর ইউনেস্কোতে ফিলিস্তিন পূর্ণ সদস্যপদ পায়।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এখনও নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতার কারণে ফিলিস্তিন পূর্ণ সদস্যপদ পায়নি। পশ্চিমা দেশগুলোতেও ফিলিস্তিন স্বীকৃতির পক্ষে জনমত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। অনেক দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপের আরও দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলে নিরাপত্তা পরিষদকে নতুন করে ভাবতে হবে। পূর্ণ সদস্যপদ না পেলেও সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের অধিকতর অধিকার প্রদানের প্রস্তাব আসতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক আদালতগুলোতেও ফিলিস্তিন আরও শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবে। ইতোমধ্যে ফিলিস্তিন আইসিজে ও আইসিসিতে গৃহযুদ্ধ ও গণহত্যার মামলায় পক্ষভুক্ত রয়েছে।
কূটনীতিকদের মতে, পশ্চিমারা এখন দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে ফিলিস্তিন স্বীকৃতিকে শান্তি আলোচনার পূর্বশর্তে পরিণত করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়েছে। যদিও তার ভেটো ক্ষমতা এখনও শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর প্রভাব কমছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি কেবল দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক জরুরি অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে ৭৫ শতাংশের বেশি দেশ যখন স্বীকৃতি দিয়েছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো শক্তি অটেকসই হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন সম্ভাবনার সুর তুলে দিচ্ছে, যেখানে দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে উত্তরণের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে ইসরায়েলের চলমান বসতি নির্মাণ এবং গাজার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com