প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ১৪, ২০২৬, ৮:২২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৫, ৬:০১ পি.এম
পূর্ব জাভায় মাদরাসা ধসে নিহত ৩, নিখোঁজ ৩৮
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশে একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুল ধসে পড়ার ঘটনায় অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছেন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৮ জন। নিহতরা আল-খোজিনি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকাল ৩টার দিকে, যখন শিক্ষার্থীরা আসরের নামাজের জন্য জড়ো হচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় হঠাৎ করেই ভবনটির ফাউন্ডেশনের খুঁটি ভেঙে পড়ে। এতে পুরো ভবনটি মুহূর্তেই ধসে পড়ে। জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সাফি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১০২ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এর মধ্যে ৯৯ জনকে জীবিত এবং ৩ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও ৩৮ জন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আরও ৯১ জন শিক্ষার্থী নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। আহত অন্তত ৭৭ জনকে আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীরা এখনও ভবনের অবশিষ্ট কাঠামো পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নতুন উদ্ধারপথ তৈরির কাজ করছেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের ফাউন্ডেশন দুর্বল ছিল এবং নির্মাণকাজ চলাকালে পর্যাপ্ত তদারকি ছিল না। বিশেষজ্ঞদের মতে, কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় নিচের স্তরের কাঠামো পর্যাপ্ত চাপ সহ্য করতে না পারায় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ঘটনা ভবন নির্মাণে কঠোর নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে বহুতল ভবন নির্মাণকালে প্রযুক্তিগত তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এটি ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় বড় ধরনের ভবন ধসের ঘটনা। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিম জাভার বগর জেলায় একটি কমিউনিটি হল ধসে পড়ে, যেখানে কুরআন তেলাওয়াত চলাকালে ভবন ধসে তিনজন নিহত হন এবং অনেকেই আহত হন।
এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা ভবন নির্মাণে অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি এবং ভবিষ্যতের জন্য কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।