উত্তর আফ্রিকার মরক্কোতে জেনারেশন জেড বা জেন-জিদের তরুণ প্রজন্ম সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। বেকারত্ব, দুর্নীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন শহরে। বিক্ষোভকারীরা মরক্কোর প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখান্নৌচের পদত্যাগ দাবি করছে।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ১ অক্টোবর লাকলিয়ার একটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। তারা অস্ত্র লুটপাটের চেষ্টা চালালে পুলিশ গুলি ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন এবং অনেকেই আহত হন। পুলিশের গুলির মুখে বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা ছুরি ব্যবহারের সুযোগ পাননি তারা। তবে তারা থানা ভবন ও পুলিশের যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে। পর্যটন শহর মারাকেশেও এক পুলিশ স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা, পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও ভবনে ভাঙচুর চালায়।
বিক্ষোভের পেছনে মূল কারণ হচ্ছে ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, দুর্নীতি দমন, ও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের দাবি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাবাতে শুরু হওয়া বিক্ষোভগুলো মূলত “জেন-জি ২১২” নামক একটি কম পরিচিত সংগঠনের উদ্যোগ। এই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং গেমিং অ্যাপসের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বিক্ষোভের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে।
মরক্কোর বেকারত্বের হার বর্তমানে ১২.৮ শতাংশ, যা ক্রমেই বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব ৩৫.৮ শতাংশ এবং স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ শতাংশ। বিক্ষোভ শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা সহিংস রূপ নেয়। তবে দেশের অর্থনৈতিক রাজধানী ক্যাসাব্লাঙ্কা, উত্তরাঞ্চলীয় শহর ওউজদা এবং তাজায় এখনও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভের মাত্র চার দিনের মধ্যে “জেন-জি ২১২” সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারে, যেখানে শুরুতে ছিল মাত্র তিন হাজার। তরুণ প্রজন্মের এই আন্দোলন ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মরক্কোর তরুণরা তাদের অধিকার ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাঠে নামেছে। আগামী দিনে এই আন্দোলনের কী পরিণতি হয়, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর কাড়ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com