১৪ বছর পর আবারও পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মানাসলু জয় করলেন এক বাংলাদেশি পর্বতারোহী। নেপালের স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত তিনটায় ৮,১৬৩ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় পা রাখেন তৌফিক আহমেদ। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের লাল–সবুজ পতাকা আবারও উড়ল হিমালয়ের উঁচু শিখরে।
তৌফিক আহমেদের এই অভিযানের সহযাত্রী ছিল নেপালের স্বনামধন্য এজেন্সি সেভেন সামিট ট্রেকস। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে, চূড়ায় ওঠার পর তিনি এখন অন্যান্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে বেজক্যাম্পে ফেরার পথে রয়েছেন।
এর আগে, ২০১১ সালের ১২ অক্টোবর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মানাসলু জয় করেছিলেন এভারেস্টজয়ী এম এম মুহিত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই গৌরব অর্জন করলেন তৌফিক।
তৌফিক আহমেদ, যিনি অনেকের কাছে তমাল নামেও পরিচিত, ‘অলটিটিউড হান্টার বিডি মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব’-এর সক্রিয় সদস্য। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। কলেজ জীবন থেকেই পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয় তার। সেই ভালোবাসা থেকে শুরু হয় ট্রেকিং, যা এক সময় পরিণত হয় পর্বতারোহণে।
২০১৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষ করে বেসরকারি একটি চাকরি নেন তৌফিক। তবে পাহাড়ের প্রতি ভালোবাসা তাকে বাঁধতে দেয়নি। পরের বছর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি যুক্ত হন ভ্রমণ এবং পর্বতারোহণে।
ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে পর্বতারোহণের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তৌফিক। পাশাপাশি রক ক্লাইম্বিংয়ের মৌলিক ও উচ্চতর কোর্সও সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে দেশের বাইরে বিশেষ করে নেপালের নানা পর্বত অভিযানে বাংলাদেশি ট্রেকারদের গাইড হিসেবে নিয়মিত কাজ করেন তিনি।
তৌফিকের মানাসলু অভিযান শুরু হয় ১ সেপ্টেম্বর, নেপালের কাঠমান্ডু থেকে। এরপর ধাপে ধাপে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর পৌঁছান ক্যাম্প-২, ২৪ তারিখ ক্যাম্প-৩ এবং সেখান থেকে শুরু হয় চূড়ার দিকে চূড়ান্ত অগ্রযাত্রা। অনুকূল আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে অবশেষে ২৫ সেপ্টেম্বর সফল হন তিনি।
বাংলাদেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে আরেকটি বড় অর্জন, যা আগামী প্রজন্মের পর্বতারোহীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com