সম্পর্কের গভীরতা এবং স্থায়িত্ব কখনোই অর্থ, উপহার বা বিলাসবহুল জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে না- এই বার্তা বারবার উঠে আসছে সমাজের বিভিন্ন স্তরে।
একজন পুরুষ যতই দামি উপহার, যেমন বিলাসবহুল গাড়ি, মাসিক ভাতা, ভ্রমণের ভিসা, শিক্ষার খরচ বা এমনকি বাড়ি বানিয়ে দিক না কেন, তবুও একজন নারীর থেকে যাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এমনকি নিজের জীবন উৎসর্গ করলেও সম্পর্কের স্থায়িত্ব নির্ভর করে নারীর নিজস্ব ইচ্ছা ও আবেগের ওপর। অর্থ বা সুবিধা দিয়ে কারও আনুগত্য কেনা সম্ভব নয়।
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের জীবনেও এর উদাহরণ স্পষ্ট। এলন মাস্ক, বিল গেটস বা জেফ বেজোসের মতো প্রভাবশালী ও অর্থবান ব্যক্তিদেরও স্ত্রীরা সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে অর্থ বা ক্ষমতা দিয়ে কাউকে চিরকাল ধরে রাখা যায় না। তাহলে সাধারণ মানুষ কেন ভাববেন যে দামি উপহার বা আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি একটি সম্পর্ককে চিরস্থায়ী করতে পারবেন? সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং মানসিক বোঝাপড়াই মূল ভিত্তি।
সমাজে প্রায়ই দেখা যায়, অনেক পুরুষ নারীকে খুশি করতে নিজের সম্পদ, সময় ও মানসিক শক্তি ব্যয় করেন। কিন্তু অন্ধ বিশ্বাস বা অতিরিক্ত নির্ভরতা সম্পর্কে ঝুঁকি তৈরি করে। সম্পর্কে থাকা নারী যদি নিজে থেকে থাকতে না চান, তবে কোনো বস্তুগত প্রলোভন তাকে ধরে রাখতে পারে না। এই বাস্তবতা পুরুষদের জন্য একটি শিক্ষা- ভালোবাসা প্রকাশ করা জরুরি, কিন্তু নিজের সম্মান, আর্থিক নিরাপত্তা এবং মানসিক স্থিতি রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কে ভারসাম্যের প্রয়োজন। নারী-পুরুষ উভয়েরই উচিত একে অপরের প্রতি সৎ ও স্বচ্ছ থাকা। পুরুষদের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া, আর্থিক ও মানসিক সীমারেখা বজায় রাখা এবং অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস না করা জরুরি। নারীদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য তারা যেন তাদের আবেগ ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন। সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়া থাকলে তা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এই বিষয়টি সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে। সম্পদ বা উপহার কখনোই ভালোবাসার বিকল্প হতে পারে না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে সততা, বিশ্বাস এবং পারস্পরিক সম্মানই প্রকৃত বন্ধন তৈরি করে। পুরুষ ও নারী উভয়ের উচিত এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজেদের মানসিক ও আর্থিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেওয়া। সমাজের প্রতিটি স্তরে এই সচেতনতা ছড়িয়ে পড়লে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com