“কেন আমি বাইক চালাতে গিয়ে হেলমেট পরবো?”
—প্রশ্নটা করেছিলাম এক ছাত্রকে।
সে বলল, “আমার মাথার সেইফটির জন্যে।”
আমি বললাম, “আমার মাথা, ব্যথা কি আপনাদের?”
একটু হাসি, একটু বিস্ময়—তারপর শুরু হলো বিতর্ক।
সে বলল, “এটা আইনে আছে। তাই আপনাকে পরতেই হবে।”
আমি বললাম, “ঠিক আছে, কিন্তু আইনও তো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। পুরোনো আইন যদি বাস্তবতার সঙ্গে না মেলে, তাহলে কি সেটার সংস্কার প্রয়োজন নয়?”
ছোট রাস্তায় হেলমেট বাধ্যতামূলক কেন?
আমি বলেছিলাম—যেসব গলিতে বাস বা ট্রাক চলে না,
যেখানে গতি ঘণ্টায় ৩০ কিমি’র নিচে,
সেখানে কি হেলমেট বাধ্যতামূলক রাখা দরকার?
যেমন, আপনি সাঁতার জানলে পুকুরে তো লাইফ জ্যাকেট পরে নামেন না,
কিন্তু সাগরে গেলে সেটা পরতেই হয়—
কারণ পরিস্থিতি ভিন্ন, ঝুঁকি ভিন্ন।
তাহলে ছোট রাস্তায়, কম গতির বাইক চালকদের জন্যেও কি এক নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত?
আইনের প্রয়োগ—নাকি অন্ধ অনুকরণ?
আইনের উদ্দেশ্য নিরাপত্তা—কিন্তু নিরাপত্তা যদি বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়,
তাহলে সেটা আর ন্যায় নয়, হয়ে যায় জবরদস্তি।
আমাদের দেশে বাইক চালকদের জন্য হেলমেট আইন থাকলেও
অটোরিকশা, সাইকেল, এমনকি রিকশাচালক বা তাদের যাত্রীদের মাথার কোনো “সেইফটির আইন” নেই।
তাহলে কি তাদের মাথা কম দামী?
একজন বাইকারের মাথা যদি ১ লাখ টাকার হেলমেট চায়,
তবে একজন সাইকেলচালক বা রিকশাচালকের জীবন কি ১০ টাকারও নয়?
আইন যদি সমতা শেখায়, তবে এই বৈষম্য কেন?
রেসিং কারে হেলমেট, কিন্তু রাস্তায় কেন নয়?
বিশ্বের অনেক দেশে হেলমেট আইন রয়েছে,
কিন্তু সেগুলো “গতি ও সড়কের ধরন” অনুযায়ী ভাগ করা।
যেমন, জাপান বা ইউরোপে কম গতির লোকাল রোডে
বাইকচালকদের হেলমেট পরা ঐচ্ছিক—
কিন্তু হাইওয়েতে বা সিটি রোডে বাধ্যতামূলক।
আমাদের দেশে একটাই আইন—“যেখানেই চলো, হেলমেট পরো।”
এমনকি গলি রাস্তায়, বাজারের ভেতরেও!
এটা কি যুক্তিসঙ্গত, নাকি কেবল “দেখনদারি শৃঙ্খলা”?
পুলিশের মাথা কি কম মূল্যবান?
আমি বলেছিলাম—
“আপনারা তো সড়কে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকেন,
যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে,
আপনাদের মাথায় তো হেলমেট নেই!
তাহলে আপনাদের মাথার মূল্য কি আমাদের চেয়ে কম?”
তারা নিরুত্তর।
কারণ, যুক্তি সেখানে থেমে যায় যেখানে আইন প্রমাণের চেয়ে মুখস্থ বেশি হয়।
আইনের সঙ্গে নাগরিকের সম্মান:
আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়।
যে আইন বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষে যায়,
সে আইন ধীরে ধীরে মানুষের শ্রদ্ধা হারায়।
সড়কে নিরাপত্তা জরুরি—কিন্তু নিরাপত্তা আসবে না
শুধু হেলমেট চাপিয়ে দেওয়ায়;
আসবে "মানুষের সচেতনতা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,
ড্রাইভিং ট্রেনিং, আর নাগরিক সম্মান" থেকে।
ছোট দাবি, বড় প্রশ্ন:
আমি জানি—আমার এই কথাগুলো হয়তো বড় পরিবর্তন আনবে না,
কিন্তু প্রতিটি পরিবর্তনের শুরু হয় একটি “কেন” থেকে।
আজ আমি প্রশ্ন তুলেছি—
*কেন সব রাস্তায় এক নিয়ম?
*কেন সব মাথার দাম সমান নয়?
*কেন আইন শুধু প্রয়োগ হয়, বোঝানো হয় না?
একদিন হয়তো এই ছোট প্রশ্নগুলোই বড় আলোচনায় পরিণত হবে।
কারণ, "যেখানে মনের কষ্ট জমে,
সেখান থেকেই জন্ম নেয় বিদ্রোহ,
আর সেই বিদ্রোহ থেকেই আসে স্বাধীনতা।"
“অধিকার যত ছোটই হোক,
তার দাবিই হলো স্বাধীনতার প্রথম ধাপ।”
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com