বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানো, ওষুধ ও তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন।
রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন: চ্যালেঞ্জেস অ্যাহেড’ শীর্ষক এক সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনের আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ। এতে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশের আরও ছয়টি বাণিজ্যিক সংগঠন—এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ।
সম্মেলনে আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি জাতীয় অর্জন। তবে এ উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা আরও ৩ থেকে ৫ বছর বাড়ানো জরুরি, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা করে সুফল নিশ্চিত করা যায়।”
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালের নভেম্বরে উত্তরণের পর বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারাতে পারে। এতে রপ্তানি আয়ে ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত পতন ঘটার শঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি, ডব্লিউটিও’র অধীনে ভর্তুকিসহ অন্যান্য বিশেষ সুবিধাও বাতিল হবে।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, উত্তরণের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে দেশের ওষুধ ও তৈরি পোশাক খাত। মেধাস্বত্ব আইন বিষয়ক ছাড় (TRIPS waiver) উঠে গেলে ওষুধ শিল্পে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, বর্তমানে ৩০-৪০ ডলারে পাওয়া ক্যান্সারের ওষুধ ‘ইমাটিনিব’ উত্তরণের পর ২ থেকে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্য হতে পারে।
এছাড়া, দেশের মোট রপ্তানির ৮১ শতাংশ জোগানদাতা তৈরি পোশাক শিল্পকেও (আরএমজি) কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোর হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্ট নেতারা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে এলডিসি উত্তরণে অতিরিক্ত সময় আদায়ের চেষ্টা জোরদার করার জন্য।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com