২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে ৫০ শতাংশ ভোট আগাম ভরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেওয়া সাক্ষ্যে এসব তথ্য জানান মামুন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের সামনে তিনি জবানবন্দি দেন।
তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগের রাতে শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, যাতে আগাম ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালটে ভরে রাখা হয়।"
মামুন আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক আন্দোলন দমন করতে ‘লেথাল উইপন’ ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো এবং ব্লক রেইড পরিচালনার সিদ্ধান্তগুলো এসেছিল সরাসরি রাজনৈতিক স্তর থেকে। এসব সিদ্ধান্তে ভূমিকা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর।
সাবেক আইজিপি তার জবানবন্দিতে বলেন, "ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং ডিবি’র হারুন ছিলেন মারণাস্ত্র ব্যবহারে অতিউৎসাহী।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের অধীনে গোপন বন্দিশালা চালু ছিল, যার মধ্যে ‘র্যাব-১’ এর অধীনে ছিল ‘টিআইএফ’ নামক একটি গোপন কেন্দ্র। এসব বন্দিশালায় রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হতো।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই এসব অপারেশনের নির্দেশনা আসতো বলে জানান মামুন। তিনি আরও বলেন, "আয়নাঘরসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং অনেক সময় 'ক্রসফায়ারে' হত্যা করা হতো। এসব অভিযানের নেতৃত্ব দিতেন র্যাবের অপারেশন বিভাগের এডিসি এবং গোয়েন্দা শাখার পরিচালক।"
চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গত ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং জানান যে, তিনি স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হয়েছেন—সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে আহত, শহীদ, চিকিৎসক ও ভুক্তভোগী পরিবারসহ মোট ৩৫ জন ইতিমধ্যে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মাসের মধ্যেই মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ আমেনা খাতুন ইভা
All rights reserved ©2017dailyaparadhchakra.com